বর্তমানের তরুণ অনেক এগিয়ে- ড.ইউনুস

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২০ জুন , ২০১৩ সময় ০৯:৫৪ অপরাহ্ণ

Muhammad_Yunus_-_World_Economic_Forum_Annual_Meeting_2012চট্টগ্রামে হাজার তরুণকে জীবনঘনিষ্ট গল্প শুনালেন ড.মুহাম্মদ ইউনুস। যেন আকাশ ছোঁয়ার গল্প। বৃহস্পতিবার ঘড়ির কাটা তখন বেলা এগারটা। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদক কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেলে ভুষিত হওয়ায় ড.মুহাম্মদ ইউনুসকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্টানে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশনে যেন তরুণদের মেলা।

হাজারো তরুনের দৃষ্টি তখন মঞ্চের দিকে। পিনপতন নীরবতা ভেঙ্গে নোবেল জয়ী ইউনুস জীবনঘনিষ্ট গল্প শুনালেন এভাবে – তোমাদের (তরুণ) হাতে রয়েছে অসীম ক্ষমতা। মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে ভাল সময় এখন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে তরুণরাই পারে অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করতে। অতীতের তরুণের চেয়ে বর্তমানের তরুণ অনেক এগিয়ে। শূধু বুদ্ধিতে নয়,সক্ষমতা উন্নয়নে নিজেদের অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছে তরুণরা।

বর্তমান বাংলাদেশে ২০-২৫বছরের তরুণ যারা মোট জনসংখ্যার বৃহত্তম অংশ। এমনকি ১৫বছরের একজন তরুণ যা করতে পারে আমি তা পারিনা। অতএব ১৫বছরের একজন তরুণকেও ভোটার করা যায়। একসময় মুরব্বীদের কাছ থেকে সমস্যা সমাধান চাইতে হতো। এখন তরুণরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে বসে “গুগল” চার্চ করে । এবং পেয়েও যায়। একসময় বাংলাদেশের রংপুরে নেংটি পড়া মানূষ চোখে পড়তো। এখন আর পড়েনা। ডাকে চিঠি দিয়ে ৩/৪মাস লাগতো জবাব পেতে। এখন হাজারো চিঠি একসঙ্গে মাত্র ৬ সেকেন্ডে পৃথিবীর শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, তোমাদের অসীম শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। যে শক্তি কাজে লাগেনা,সে শক্তি পচাঁ শক্তি। আমার দেশের তরুণরাই হলো সুপারম্যান। তারা চাইলে আকাশ ছুতে পারে। ‘এখন তোমরা অনেক শক্তিশালী। প্রযুিক্ত তোমাদের অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। এখন ফেসবুক, সোশ্যাল মিডিয়া, আরও অনেক কিছু আছে। এ শক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। কল্পনার শক্তিকে বাড়াতে হবে। এমন সমাজ সৃষ্টি করতে হবে যেখানে একদিন মানুষ বলবে, আমাদের আগের জমানায় নাকি গরীব, বেকার লোক ছিল ? সেই শক্তিকে কিভাবে কাজে লাগাতে হবে আকাংখা নিয়ে ছুটতে হবে দেশ থেকে -দেশান্তরে। আবারও ফিরে আসতে হবে বাংলার মাঠিতে।

তখন তিনি নিজের জীবনপঞ্জি থেকে বললেন, ১৫বছরের সেই তরুণের ইউরোপ দেখা থেকে শুরু করে মহান স্বাধীনতার সময় আমেরিকার কংগ্রেস ম্যান, সিনেটর এবং নাগরিকদের মাঝে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রচারণা চালানো সবই করেছি । বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমেরিকা ছেড়ে দেশে এসে দারিদ্রতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করি। এসংগ্রাম হলো দারিদ্রতাকে জাদুঘরে পাঠানোর সংগ্রাম। দেশ স্বাধীনের পর এসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলাম। মহাজনী প্রথা ভেঙ্গে খাদ্য উৎপাদনে তেভাগা খামার থেকে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প চালু করি। চট্টগ্রামের হাটহাজারী জোবরা গ্রামের কৃষি ব্যাংকের সাথে চুক্তি হলো – ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প থেকে গরীব মানুষকে ঋণ দেয়া ।

তিনি জানান, সে সময়ের বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসন রাজি হলোনা চট্টগ্রামে গ্রামীন ব্যাংক শাখা দিতে। চলে গেলাম টাঙ্গাইলে। সেখানে গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প নামে শুরু হলো। কিছুদিনের মধ্যে প্রকল্প উঠে গিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক নামকরণ করা হলো। সে থেকে যাত্রা শুরু । যেন থামবার নয়। ইউরোপ-আমেরিকা সহ আবরজাহানে পর্যন্ত আজ গ্রামীণের হাজারো শাখা রয়েছে। এ ক্ষুদ্রঋণ এমন জিনিস না যে আসমান থেকে নামলো। সারা দুনিয়ায় প্রমাণ করে ছাড়লাম ব্যাংক শুধু বড়দের জন্য নয়, গরীবের জন্য ব্যাংক। শুধুমাত্র আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে ৬টিশাখা রয়েছে। এতে ১২হাজার গ্রহীতা রয়েছে। তিনি বলেন, আমেরিকার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন আপনার দেশ ফেলে আমেরিকায় আসলেন কেন। উত্তরে তিনি জানান, তোমাদের জানাতে এসেছি কারণ তোমাদের মন পাল্টালে দুনিয়ার মন পাল্টাবে। তাই গ্রামীণ ব্যাংক তোমাদের দেশেও আছে; শহরেও আছে।

এটা কোন সায়েন্স ফিকশন না, এটা হলো স্যোশাল ফিকশন। মানুষের অসীম ক্ষমতা দিয়ে কল্পনাকে জয় করা। বেকারত্বের বোঝা নিয়ে আজ ইউরোপ কাঁদছে। স্পেনে আরও প্রকট। তবে কেন এ বেকারত্ব। ওসব তরুণ-যুবকদের যোগ্যতা,আগ্রহের কি অভাব আছে। আমাদের দেশেও বেকারত্বের চিত্র করুণ। একটা চাকুরীর জন্য টেলিফোন লাগে। তিনি প্রশ্ন করেন, কেন বেকারত্বের জন্য লাখ-লাখ তরুণ-যুবক কষ্ট পাবে। এসব তরুণদের আগ্রহ- যোগ্যতা সবই আছে। তাহলে কেন তারা শাস্তি পাবে, অনেকে বলে সিস্টেমের কারণে শাস্তি পাচ্ছ্।ে সিস্টেম মানুষকে শাস্তি দেবে। এটা হতে পারেনা –মানুষ সিস্টেমকে শাস্তি দিবে। মানুষের চেয়ে বড় সত্য কিছু নেই। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্য করে বলেন – তোমরা বাংলাদেশের বৃহত্তর সমাজের বৃহত্তম অংশ। তোমাদের জগৎ তোমরা গড়ে তোল। তোমরা বল আমরা এখনই নেতৃত্ব দেব।


আরোও সংবাদ