হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির জেরে প্রান গেলো প্রবাসীর

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ জুন , ২০১৪ সময় ১১:২০ অপরাহ্ণ

প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, হাইওয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ
মিরসরাই সংবাদদাতাহাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির জেরে প্রান গেলো প্রবাসীর
মিরসরাইয়ে সিএনজি অটোরিকসা দুর্ঘটনায় এক প্রবাসী নিহতের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। নিহত সৌদি আরব প্রবাসীর নাম সিরাজদ্দৌলা (৩৫)। সে উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে। এসময় ফারজানা আক্তার (৩২) ও এরাদুল হক (৬০) নামে আরো দুইজন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য এলাকাবাসী হাইওয়ে পুলিশকে দায়ী করে এক কনস্টেবলকে আটকিয়ে রাখে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনাপাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী মফিজুর রহমান ও আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, সকাল ১১টা থেকে হাইওয়ে পুলিশ সোনাপাহাড় এলাকায় যানবাহন থামিয়ে টাকা নিচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী কাভার্ডভ্যানকে (চট্ট মেট্রো-ট ১১-২৯৪২) থামতে সংকেত দিলে সে বেপরোয় চালিয়ে চলে যেতে চাইলে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে প্রবাসী সিরাজদ্দৌলা মারা যায়। পরে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী এসে মহাসড়ক অবরোধ করে এবং হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল সাইফুল ইসলামকে মহাসড়কের পাশের একটি বাড়িতে আটকে রাখে। প্রায় ১ ঘন্টা পর জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এলাকার লোকজনকে শান্ত করে ব্যারিকেড তুলে দেয় এবং কনস্টেবল সাইফুলকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বেলা ১টার পর মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেন জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ফারজানার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তর করা হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার জ্যেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন জানান, বেলা ১টার দিকে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। কনস্টেবল সাইফুলকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
চৌধুরীর হাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাহাদুর শাহ গাড়ি থামিয়ে টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাভার্ডভ্যানটি আগে থেকেই ওই স্থানে দাঁড়িয়ে ছিল। তবে আমরা ওই স্থানে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এসময় একটি গাড়িকে থামাতে সংকেত দিলে ওই গাড়িটি ওভারটেক করে যাওয়ার সময় সিএনজি অটোরিকসাটি দাঁড়ানো কাভার্ডভ্যানটির সাথে মেরে দেয়।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন ঘটনাটি নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন পূর্বাঞ্চল হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনসহ বেশ কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।