হল-মার্ক জালিয়াতির তদন্ত গতি পাচ্ছে না

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৪ মার্চ , ২০১৪ সময় ১১:২৪ অপরাহ্ণ

দেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা হল-মার্ক গ্রুপের অর্থ আত্মসাতের এক হাজার ৭০৯ কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত যেন গতি পাচ্ছে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। কিন্তু অনুসন্ধান শেষ না হওয়ায় সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে অন্য ব্যাংকের পাওনা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এক চিঠিতে এই অনুসন্ধান ও তদন্তগুলো দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে দুদককে। যদিও দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এই চিঠি কমিশন বা অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দেড় মাস পরও পাননি বলে দাবি করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। চিঠির স্মারক নম্বর: এফআইসিএসডি/৫০০৩(সি)/২০১৪-২১৭। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সোনালী ব্যাংক হোটেল শেরাটন শাখার জালিয়াতি করে তৈরি স্বীকৃত বিলগুলোর বিষয়ে দুদকের তদন্ত চলতে থাকায় সোনালী ব্যাংক তাদের দায়ের অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না।
ব্যাংকের হোটেল শেরাটন শাখার স্বীকৃত বিলের বিপরীতে ২৬ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে আত্মসাৎ করা এক হাজার ৭০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার বিলগুলো নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, আতিউর রহমানের চিঠিটি বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে ওই দিনই দুদকের চেয়ারম্যানের দপ্তরে পৌঁছায়। কিন্তু সেই চিঠি এখনো অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো চিঠি এসেছে বলে আমি জানি না।’ সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে রূপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) হোটেল শাখা থেকে শুধু হল-মার্ক দুই হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা জালিয়াতি করে বের করে নেয়। এর মধ্যে স্বীকৃত বিলের বিপরীতে পরিশোধিত (ফান্ডেড) অর্থ হচ্ছে এক হাজার ৫৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৭ টাকা। গত বছরের ৪ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় এসব অভিযোগে পৃথক ১১টি মামলা করেছে দুদক।
এ ছাড়া টিএন ব্রাদার্স, নকশি নিট কম্পোজিট, খানজাহান আলী সোয়েটার্স, প্যারাগন ও ডিএন স্পোর্টসের বিরুদ্ধে আরও ২৭টি মামলা দায়ের করে দুদক। পাশাপাশি মোট ৩৭টি ব্যাংকের ১২০টি শাখা থেকে এক হাজার ৫০৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ তুলে নিয়ে গেছে হল-মার্কসহ ছয় প্রতিষ্ঠান।
এই অর্থ সোনালী ব্যাংকের হোটেল শেরাটন শাখা থেকে লিখিত বা মৌখিক স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে এসব ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিশোধ করেছে। কিন্তু এখন সোনালী ব্যাংক লেনদেনকারী অন্য ব্যাংকগুলোর অর্থ ছাড় করছে না দুদকের তদন্তের কারণে। এ নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে আস্থা ভঙ্গ ও সংকট দেখা দিয়েছে।
ব্যাংকগুলো আইসিসি ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিটস (ইউসিপি-৬০০) অনুসারে চাপ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংককে। ইউসিপি-৬০০ অনুসারে স্বীকৃতি দেওয়া ব্যাংক অর্থাৎ সোনালী ব্যাংক এই অর্থ পরিশোধে বাধ্য। কিন্তু বিধানটি আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর এ বিধানে স্থানীয় আইনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনস ফর ফরেন এক্সচেঞ্জে স্থানীয় ব্যাক টু ব্যাক এলসির ক্ষেত্রে সরবরাহকারীকে একই সঙ্গে উৎপাদক হওয়ারও শর্ত দেওয়া রয়েছে।
আবার বৈদেশিক বিনিময়সংক্রান্ত এডি শাখা ব্যাংককে সরবরাহকারীর মজুত ও পণ্য উৎপাদনের বিষয়ে নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে। কিন্তু হল-মার্কের সঙ্গে ব্যাক টু ব্যাকে সরবরাহকারী এই ৩৭ কোম্পানিরই অস্তিত্ব মেলেনি।