হলমার্ক কেলেঙ্কারির সেই হেনরী সিরাজগঞ্জ-২ আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:২৫ অপরাহ্ণ

হলমার্ক কেলেঙ্কারির সেই হেনরী আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, আলোচনাসভা, মতবিনিময়, জনসভা, ঈদ পুনর্মিলনীসহ বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এদিকে, হেনরীর নির্বাচনী গণসংযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা। তৃণমূল নেতাকর্মীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না হলমার্ক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ওই নেত্রীকে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জান্নাত আরা হেনরীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিলে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই আগামী নির্বাচনেও পরাজয় বরণ করতে হবে তাকে।

সূত্রমতে, জেলায় ১৮ দলের নেতাকর্মীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে মাঠে অবস্থান নিলেও সরকারি দলের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। সিরাজগঞ্জ-২ নির্বাচনী আসনে সরকারিদলের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা সভা, সমাবেশ, গণসংযোগে মুখর হয়ে উঠেছেন।

তবে ক্ষমতাসীনদলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের থেকে কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই সিরাজগঞ্জের বহুল আলোচিত আওয়ামীলীগ নেত্রী জান্নাত আরা হেনরী তালুকদার। যার নামটি বার বার উঠে এসেছে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে। এ কারণে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে হেনরীর ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন হেনরী ও সমর্থকরা।

উল্লেখ্য, জান্নাত আরা হেনরী ছিলেন পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা। সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রোমানা মাহমুদের কাছে তিনি পরাজিত হয়েও বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন কারণে আলোচনায়ে উঠে এসেছেন।

সাড়ে চার বছর আগেও জান্নাত আরা হেনরীর জীবনযাপন ছিল খুবই সাদামাটা। চলাচল করতেন রিকশায়। মধ্যবিত্ত আর দশজনের মতোই সাদামাটা জীবনযাপন ছিল তার। মহাজোট সরকার ক্ষমতা নেয়ার পরপরই রাতারাতি পাল্টে যেতে থাকে তার জীবন। সাধারণ স্কুল শিক্ষক থেকে হয়ে যান শত কোটি টাকার মালিক। শিক্ষক থেকে হন সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। সিরাজগঞ্জ শহরের সবুজ কানন হাইস্কুলের শিক্ষিকা হেনরী ২০০৯ সালে সোনালী ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক নিযুক্ত হন। মালিক হন বিপুল পরিমাণ অর্থ-বিত্তের। গাড়ি-বাড়ি আর সামাজিক অবস্থানেরও রাতারাতি পরিবর্তন হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত নেতা প্রয়াত মোতাহার হোসেন তালুকদারের পুত্রবধূ হিসেবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন হেনরী। শ্বশুর প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে হেরনী হয়ে উঠেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন। সে কারণেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রভাবশালী এক নেতার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ হেনরীর মনোনয়ন প্রাপ্তিতে বিরোধীতা করলেও প্রার্থী হতে বেশি বেগ পেতে হয়নি।

অবশ্য নবম জাতীয় নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেননি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হয়ে ওঠা ওই নেত্রী। বিএনপির প্রার্থী রুমানা মাহমুদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সুধাসদনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর হেনরীর ওপর হামলা হয়। তবে হামলা আর নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি মুছে দিতেই হেনরীকে নিয়োগ দেয়া হয় সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে। আর সেই থেকে উত্থান ঘটে স্কুল শিক্ষিকা হেনরীর।

সূত্রমতে, সোনালী ব্যাংকের পরিচালক পদে নির্বাচিত হওয়ার পর চাকরিবাণিজ্য, কর্মকর্তাদের পদন্নোতি ও বদলি, ঋণপ্রদান ও মওকুফ করা, বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য করে চার বছরে হেনরী প্রায় শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বাড়িতে বসে তিনি তালিকা করে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করতেন। বিষয়টি আলোচনায় এলে হেনরীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এত কিছুর পরও জান্নাত আরা হেনরী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন উত্তোলন করায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আড়ালে-আবডালে শুরু হয়েছে নানা কথা। তবে এ বিষয়ে কোনো নেতা কথা বলতে রাজি হননি।

তবে সমর্থকদের দাবি, জান্নাত আরা হেনরীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়। প্রতিপক্ষরা তাকে ঘায়েল করতে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুদক তদন্ত করে হেনরীর অবৈধ সম্পত্তির প্রমাণ পায়নি। এ কারণে দুদক থেকে তাকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।


আরোও সংবাদ