হলফনামায় তথ্য: পেকুয়ার চার চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ১জন ছাড়া ৩ জনই ধনী!

প্রকাশ:| শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:২৯ অপরাহ্ণ

0 (3)
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া চার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ছাড়া অপর ৩জনই ধনী! আওয়ামীলীগের ২ প্রাথী ও বিএনপির ১ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৩জন প্রার্থী হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধনী। এর মধ্যে বিএনপির একক প্রার্থী শাফায়েত আজিজ রাজুর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম, ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাংবাদিক জহিরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ উল্লেখ করেছেন তাদের দেওয়া হলফনামায়। অপর দুই প্রাথীর মধ্যে আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ ও আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী স্বশিক্ষিত বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
গত রোববার পেকুয়ার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট আওয়ামী লীগ সমর্থিত একক প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী, আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রাথী সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত একক প্রাথী শাফায়েত আজিজ চৌধুরী রাজু মনোনয়ন পত্রের সাথে তাদের হলফনামা ও জমা দিয়েছেন।
এসব হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রাথী ও পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারান সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় উল্লেখ করেছেন ১লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এসএসসি। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের কাছে নগদ টাকা রয়েছে ১লাখ টাকা, ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪লাখ টাকা, নিজের স্ত্রীর রয়েছে ৩ভরি স্বর্ণ যার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার। এ ছাড়াও জাহাঙ্গীর আলমের স্থাবর সম্পদের তালিকায় ১০ লাখ মূল্যমানের ৩ একর কৃষি জমি রয়েছে। যৌথ মালিকানা কৃষি জমি রয়েছে ৪লাখ টাকা মূল্যমানের আরো ১ একর। ১০লাখ টাকার একটি বাড়ী রযেছে। এ ছাড়াও ১০লাখ মূল্যমানের ১০ একর চিংড়ি প্রজেক্ট রয়েছে। তার নামে কোন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্টানে দায়-দেনা নেই বলে উল্লেখ করেছেন। আওয়ামী লীগের এ বিদ্রোহী প্রার্থী তার বিরুদ্ধে আদালতে ১০টি মামলা রয়েছে উল্লেখ করেছেন। সেখানে ২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন। এবং নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারন করে হলফনামায় উল্লেখ করেছন ৫ লাখ টাকা।
এদিকে বিএনপির একক প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন বিকম পাশ। কৃষিখাত থেকে তার বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ১লাখ ২০হাজার টাকা, বাড়ী ও দোকান ভাড়া থেকে তার আয় ২৬হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ৭০হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্টানে জমা রয়েছে ৫০হাজার টাকা। স্ত্রীর রয়েছে ১লাখ ১০হাজার টাকার ১০ভরি স্বর্ণ। ১লাখ ৭৫হাজার মূল্যমানের টিকেএস মডেলের একটি দামী মটরসাইকেল রয়েছে। তার রয়েছে ১লাখ ৬১ হাজার টাকার আসবাবপত্র। ২২হাজার টাকার ২টি দামী মোবাইলে সেট রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাজুর রয়েছে ৩লাখ টাকার ৩কানি ১৩ গন্ডা কৃষি জমি ও যৌথ মালিকানার অংশে তার আরো ৪একর কৃষি জমি রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ও রয়েছে ৪একর কৃষি জমি। যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৮লাখ টাকা। এছাড়াও তার আরো ৫ একরের মৎস্য প্রজেক্ট রয়েছে। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিএনপির প্রার্থীর থানা ও আদালতে কোন ধরনের মামলা নেই।
আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী প্রাথী পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছন বিএ পাশ। কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় ১লাখ টাকা, চাকুরী থেকে আয় ১লাখ ১০হাজার টাকা ও নিজের স্ত্রীর চাকুরী থেকে আয় দেখিযেছেন ১লাখ ১০হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দেখিয়েছেন, নগদ ৩লাখ টাকা ও স্ত্রীর কাছে ও নগদ রয়েছে ৩লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্টানে নিজের ও স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬লাখ টাকা। এছাড়াও ৫লাখ মূল্যমানের ১টি ত্রি-হুইলার মাহিন্দ্রা গাড়ী ও স্ত্রীর নামে ৫০হাজার টাকা মূল্যমানের ১টি মটরসাইকেল, ১লাখ টাকার ১০ভরি স্বর্ণ রয়েছে। তার ৮০ হাজার টাকার ইলেকক্টনিক্স সামগ্রী ও ২লাখ টাকার আসবাব পত্র রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে এ প্রাথীর রয়েছে ৪০লাখ মূল্যমানের ১একর জমি, ২০লাখ টাকার পাকা ১টি বাড়ী ও ২০লাখ মূল্যমানের ১০একরের চিংড়ি ঘের রয়েছে। তার নামে কোন মামলা ও দায়-দেনা নেই মর্মে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
এদিকে হলফনামায় আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী নিজের কৃষিখাত থেকে ২লাখ টাকা ও ব্যবসা থেকে ১লাখ ৫০হাজার টাকা বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের কাছে ১লাখ টাকা ও ব্যাংকে ১০হাজার টাকা রয়েছে। ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাব পত্র রয়েয়ে ২লাখ টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে কোন কৃষি জমি নেই। যৌথ মালিকানার অংশে ৫০হাজার মূল্যমানের ৬ একর কৃষি ও ৩০ শতক অকৃষি জমি রয়েছে। ২লাখ টাকা মূল্যমানের একটি পাকা বাড়ী ও রয়েছে।