হবিগঞ্জে যথেচ্ছ বালু উত্তোলনে রাবার বাগানের ক্ষতি

প্রকাশ:| সোমবার, ১২ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৪:৩২ অপরাহ্ণ

মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল>> rabarবাহুবল উপজেলার রূপাইছড়া রাবার বাগান এলাকা থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এতে রাবার বাগানের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়া ছাড়াও সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর যাবত সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখায় রাবার বাগান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। ঐ বাগানে বালু উত্তোলনের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকায় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

জানা যায়, ১৯৭৭ সালে বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় বাহুবল উপজেলার রূপাইছড়া পাহাড়ি এলাকায় ১৯৬২ একর ভূমিতে রাবার বাগান তৈরি করা হয়। প্রায় এক দশক পূর্বে জনৈক ফজলুল হক বাদল রূপাইছড়া বালু মহালটি জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয় হতে লিজ নেন। পরবর্তীতে তিনি বালু মহালটির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন ঐ এলাকার প্রভাবশালী নেতা মুদ্দত আলীকে। তারপর থেকেই শুরু হয় যথেচ্ছ বালু উত্তোলন। মূল্যবান বালু বিক্রি করে এর সাথে সংশ্লিষ্টরা কামাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ যাতে লিজের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য মৌজার নাম পরিবর্তন করে শ্মশানছড়া নামে গেজেট করানো হয়। পরবর্তীতে বালু মহালটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের হওয়ার সুযোগে প্রভাবশালী মহলটি রাবার বাগান ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। এক্ষেত্রে তারা কালিছড়া, দিগাম্বর ছড়া বালু মহাল লিজ নেয়ার অজুহাত দেখিয়ে সরকারি রাবার বাগানের পাহাড়-টিলা কেটে বালু উত্তোলন করতে থাকে। এ ব্যাপারে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা দায়ের করা ছাড়াও উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু কোন ফল হয়নি। ওয়াকিবহাল মহল জানান, রাবার বাগানের মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর, ম্যাপ ইত্যাদি সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ না থাকায় আইনের ফাঁক-ফোকরে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয় না।

ইদানিং ছাত্র ঐক্য পরিষদ নামে একটি স্থানীয় সংগঠন ঐ প্রভাবশালী নেতা তার লোকজনের বিরুদ্ধে রাবার বাগান থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ করে। এ নিয়ে বাগান এলাকায় দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কিছুদিন পূর্বে অভিযোগ পেয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনীন্দ্র কিশোর মজুমদার সরজমিনে গিয়ে বাগানের ভিতর থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করার এবং মহাসড়কের দু’পাশে স্তুপিকৃত বালু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা এ আদেশ অগ্রাহ্য করে তাদের বেআইনী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এদিকে সোনার বাংলা বাণিজ্যিক সংস্থার স্বত্বাধিকারী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুদ্দত আলী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দিগাম্বর ছড়া ও কালীছড়া বালুমহালের তিনি বৈধ ইজারাদার। তিনি বলেন, যারা বালুমহাল ইজারা নিতে ব্যর্থ হয়েছে তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।

রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক মফিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে বাহুবল থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া ছাড়াও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।