হত্যা করে পুকুর পাড়ে পুঁতে রাখার ৯দিন পর লাশ উদ্ধার

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ০৭:২৭ অপরাহ্ণ

গিয়াস উদ্দিন, কুতুবদিয়া থেকে ফিরে
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় গৃহপরিচারিকাকে হত্যা করে বাড়ীর পুকুর পাড়ে গোপণে পুঁতে রাখার ৯দিন পর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাড়ীর গৃহকর্ত্রীসহ ২জনকে আটক করেছে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের উত্তর মগডেইল গ্রামের জনৈক গিয়াস উদ্দিনের বাড়ীর পুকুর পাড় থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় তাহমিনা বেগম (১৫) এর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

হত্যা করে পুকুর পাড়ে পুঁতে রাখার ৯দিন পর লাশ উদ্ধারপুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তাহমিনা দীর্ঘ ৫ বছর ধরে গিয়াস উদ্দিনের বাড়ীতে গৃহপরিচারিকার কাজ করছিলেন। নিহতের বাড়ী কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের গায়না কাটা গ্রামে। সে ওই গ্রামের নুর কাদেরের কন্যা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়ীর মালিক গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা আক্তার (৪৮) ও তাদের বাড়ীর কামলা চকরিয়া উপজেলা ডেমুশিয়া গ্রামের মৃত শাহাদাৎ হোসেনের পুত্র বেলাল উদ্দিন (৩৪) কে আটক করেছে পুলিশ।

কুতুবদিয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ ডিসেম্বর বিকালে গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা আকতারসহ পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়ীর গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে হাত-পা রশি দিয়ে বেধে রাখার পর গরম লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাকা দেয়া হয়। অমানবিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাহমিনা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এসময় প্রতিবেশি কেউ যেন ঘটনাটি আচ করতে না পারে; সে জন্য তাহমিনার লাশ নিলুফা আকতার তার শয়ন কক্ষের খাটের নিচে বস্তাবর্তী করে ফেলে রাখা হয়। ১৫ ডিসেম্বর রাতে নিলুফা আকতার ও তাদের বাড়ীর কামলা বেলাল উদ্দিন মিলে প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা করে শাবল ও খন্তা দিয়ে পুকুর পাড়ে একটি গর্ত খনন করে। এবং দুইজনে মিলে তাহমিনার লাশ টানা-হেচড়া করে ওই গর্তে রেখে উপর মাটি চাপা দেয়।

ওই বাড়ীর আশেপাশের কয়েকজন প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকে নিলুফা আকতারের স্বামী গিয়াস উদ্দিন ও দুই পুত্র চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়। তবে বাড়ীর কামলা বেলাল ও নিলুফা আকতার পালায়নি। বাড়ীর গৃহকত্রী নিলুফা ও পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়িতই গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে মারধর করত বলে প্রতিবেশীরা জানান। এক পর্যায়ে গত কয়েক দিন ধরে তাহমিনাকে না দেখে প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তারা গতকাল সোমবার সকালে বিষয়টি কুতুবদিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করে।

এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া থানার ওসি মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, স্থানীয়দের সূত্রে মৌখিক অভিযোগ পেয়েই সাথে সাথেই পুলিশ ওই বাড়ীতে গিয়ে গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা আকতার ও তাদের বাড়ীর কামলা বেলাল উদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে গৃহপরিচারিকাকে হত্যা করে লাশ পুকুর পাড়ে পুঁতে রেখেছে বলে স্বীকার করের তারা।

ওসি আরো জানায়, তাদের দেওয়া তথ্যেমতে আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে গিয়াস উদ্দিনের বাড়ীর পুকুর পাড়ে একটি গর্তে পুঁতে রাখা অবস্থায় অর্ধগলিত তাহমিনার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল তৈরী করা করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।