হত্যার হুমকি দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৯:৪০ অপরাহ্ণ

চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে দুই অসামিকে হত্যার হুমকি দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ দুই আসামি হলেন- এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম (অব.) ও এনএসআইয়ের সাবেক উপপরিচালক মেজর লিয়াকত হোসেন (অব).।

বৃহস্পতিবার ফৌজধারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আদালতে তারা এসব অভিযোগ করেন। চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এসএম মুজিবুর রহমানের আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চলছে। আদালত আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন জানান, আসামিদের মধ্যে একমাত্র এগজামিন বাকি রয়েছে মতিউর রহমান নিজামীর। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলার কারণে তাকে এ মামলায় হাজির করা হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার মামলার অন্যতম দুই আসামি আব্দুর রহিম ও লেয়াকত আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এবং ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তি অস্বীকার করছেন।

এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম (অব.) আদালতকে বলেন, ‘দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের সময় আমি চট্টগ্রামে ছিলাম না। এরপরও আমাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে চরম মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমার পা উপরে তুলে ফ্যানের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে হাত ও চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের কথায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী না দিলে ২১ আগস্টের মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে জোর করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। তাদের কথায় মামলার ভয়ে জবানবন্দী দিলেও আমাকে ২১ আগস্ট মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমাকে রিমান্ডে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। শুধু গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করার কারণে বিশেষ গোষ্ঠীর গোপন কিছু খবর ফাঁস হওয়ার ভয়ে আমাকে বিনা অপরাধে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জড়ানো হয়েছে।’

অপর আসামি লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। এরপরও আমাকে সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আমার কাছ থেকে কোনো তথ্য না পেয়ে আমাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। চট্টগ্রামের সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন সাংবাদিকের কথা মতই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ লেখা হয়।’

তিনি বলেন, ‘সিআইডি কার্যালয়, র‌্যাব কার্যালয়ে আমাকে বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেয়া হয়।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফেরারী আসামি সার্জেন্ট হেলাল ও সার্জেন্ট আলাউদ্দিনের মাধ্যমে টিআই প্যারেডে মিথ্যা শনাক্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা তার অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করেছেন। কেননা আমি ওই সময় চট্টগ্রামে ছিলাম না।’