হত্যার অভিযোগে দেয়া এজাহার ফেরত দিলেন ওসি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ , ২০১৭ সময় ০৯:১৯ অপরাহ্ণ

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ঝুমপাড়া এলাকার আনোয়ারুল ইসলামের পুত্র রিক্সা চালক মো: রমজান আলী (৪০) হত্যা অভিযোগে দায়েরকৃত এজাহার ২০দিন পর ফেরত দিলেন ওসি জিয়া মুহাম্মদ মুস্তাফিজ ভুইয়া। মামলার বাদি ভিকটিমের পুত্র দেলোয়ার হোসেন ২৩ মার্চ এ অভিযোগ ফেরত দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম রমজান আলী দীর্ঘ ২০বছর ধরে চট্রগ্রামে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। মাঝে মধ্যে তার পিতা মাতাকে দেখতে গ্রামের বাড়ি ঝুম পাড়ায় আসতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারী তার পিতার বাড়িতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বেড়াতে আসেন। গত ২ মার্চ রাত ৮টায় একই এলাকার জমির হোসেন নামের এক ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় বাদি তার আরো দু’আত্বীয়কে নিয়ে পিতাকে খুঁজতে বের হয়। চারা খোলা নামক স্থানে যাওয়ার পর তারা দেখতে পায় তার পিতাকে ১৪/১৫জনের একদল সন্ত্রাসী মাটিতে শুয়ে হত্যা করতেছে। এ সময় তার চিৎকার শুরু করলে তাদেরকেও হত্যার উদ্দেশ্য হামলার চেষ্টা চালায়। পালিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি অবগত করলে তার পিতাকে ওই স্থানে মৃত দেখতে পায়। পরে স্থানীয় এমইউপি আবুল কাশেম লাশের বিষয়টি পেকুয়া থানাকে অবগত করলে থানা পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

বাদি জানান, আমার পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার ১দিন পর জমির হোসেনসহ ৯জনের নাম উল্লেখ ৬/৭জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে পেকুয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। তিনি সকাল বিকাল আর রাত করতে করতে সে থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত আমরা পেকুয়া থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করেছি। সর্বশেষ গতকাল ২৩ মার্চ তিনি আমাদের এজাহারটি ফেরত দিয়ে দেন। ফেরত দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমাকে বদলি করা হয়েছে। তোমরা আদালতের আশ্রয় নাও। আমরা নিরুপায় আর হতবাক হয়ে থানা থেকে ফেরত আসি। আমরা রিক্সা চালকের পরিবার বলে তিনি আমাদের দায়েরকৃত মামলাটি সকাল বিকাল করে ফেরত দিলেন। এখন আমরা কোথায় যাব। এ দিকে মামলার আসামীরা প্রতিদিন আমাকে হুমকি দিচ্ছে মামলা না করার জন্য। এ বিষয়ে আমি স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মুহাম্মদ মুস্তাফিজ ভুইয়ার মোঠেফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। রিসিভ না করায় থানায় গিয়ে আবারো যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু সেখানেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে এক কর্মকর্তা জানান, তাকে কুতুবদিয়ায় বদলী করায় নিজ কাজে ব্যস্ত আছেন।