হতাশা মোকাবিলা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ৫ মে , ২০১৮ সময় ০৮:৫৮ অপরাহ্ণ

আধুনিক যুগে যে কারো হতাশায় ভোগা একটি সাধারণ বিষয়, এতে আশ্চর্য‌ হওয়ার কিছু নেই। বাইরের পারিপার্শ্বিক চাপ, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারা এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা- সব মিলিয়ে একজন মানুষ হতাশায় পর‌্যবসিত হতে পারেন।

যাই হোক, কোনো সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের একেকজনের কৌশলগত পদ্ধতি একেক রকম হতে পারে। প্রত্যেকেই দুঃসময় মোকাবিলা করেন ভিন্নভাবে।

অনেকেই নিজের জীবনের খারাপ সময়, রাগ বা হতাশা অন্যকে বুঝতে দেন না। এরপরও এটা লুকিয়ে রাখা একটা কঠিন কাজ। প্রিয়জনকে এই অবস্থার মধ্যে দেখতে যে কারোরই খারাপ লাগে।

আপনি যদি দেখেন প্রিয়জন হতাশার মধ্যে রয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। তার কথা শোনা এবং মানসিকভাবে তাকে সমর্থন দেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে আপনার কিছু করণীয় রয়েছে।

বিষয়টি শোনা: মানসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজভাবে হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির কথা শুনে তাকে সমর্থন করা। এটি একটি কার‌্যকরী সাধারণ পন্থা যা হতাশাগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন। আপনি তাদের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন না কিন্তু আপনার সমর্থন হয়তো তার সমাধানের পথটা মসৃণ হবে। তাদের কথা শোনাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি হয়তো তার সমস্যার বিষয়টা বুঝতে পারছেন না। এক্ষেত্রে আপনি তার সঙ্গে কথা বলুন এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো মতামত দিন। আপনি তার সমস্যার কথা জানতে আগ্রহী এটা তাকে বুঝতে দিন।

তাদের আবেগকে অবমূল্যায়ন না করা: ‘জাস্ট বেয়াদব’ বা ‘তুমি কেন এভাবে ভাবছ’ হতাশাগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। কোনো কারণে তারা তাদের অনুভূতি এভাবে প্রকাশ করেন। যা বিষয়টি সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা নেই। আপনার কাছে তিনি বিষয়টি খোলাসা করতে চাইলে তা নিশ্চিত হয়ে নিন। বিষয়টি শুনে তাকে উৎসাহিত করে এবং ইতিবাচক পরামর্শ দিতে হবে।

বিচার করবেন না: বিষয়টি বিচার বিশ্লেষণ না করে তাকে উপদেশ দেওয়া একদমই ঠিক নয়। হতাশার মধ্যে থাকলে সব সময় নিজেকে একাকি মনে হয়। এক্ষেত্রে আপনার অহেতুক উপদেশ তার উপর আরো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মন খুলে তার সঙ্গে মিশুন, সমস্যার বিষয়টি বুঝে কার‌্যকরী মতামত দেওয়ার চেষ্টা করুন।

কাজে সাহায্যের হাত বাড়ান: প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য চাইতে লজ্জার কিছু নেই। আপনি যদি দেখেন আপনার বন্ধুটি দৈনিক কার্যক্রম ঠিকমতো করছে না। এক্ষেত্রে তাকে সাহায্য চাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। এতে তার হতাশা কাটতে অনেকটা সাহায্য করবে। তাকে এটা বোঝাতে হবে তিনি একা নন।

ধৈর্যশীল হওয়া: কাউকে হতাশার মধ্যে থাকতে দেখলে ধৈর্য সহকারে তার দেখাশোনা করা উচিত। প্রিয়জনের হতাশা কাটাতে আপনার সমর্থন, ভালোবাসা, ধৈর্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একটি পরিকল্পা তৈরি করা: একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, খেলা করা, ডিনার করার পরিকল্পনা করুন। এমনকি সকালে একসঙ্গে হাঁটতে যাওয়া যায়। এতে করে হতাশা কাটতে সাহায্য করে। কাজের মধ্যে থাকলে মস্তিষ্কও ব্যস্ত থাকে এবং হতাশা গ্রাস করতে পারে না।

ভালোবাসা প্রকাশ করা: হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির খেয়াল রাখা এবং তাকে এটা বুঝতে দিন আপনি তাকে ভালোবাসেন। তাকে বোঝান যে বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছুই নেই। এতে তার হতাশা কাটাতে সহজ হবে।