‘সকল সড়ক ও সেতুর টোল গণবিরোধী’ বিএনপি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ

দেশের সকল জাতীয়, আঞ্চলিক, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এবং ২০০ মিটার ও এর অধিক লম্বা সেতুতে যান চলাচলের জন্য টোল আদায়ের সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী নীতিমালা বলে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কয়েকদিন আগে সরকার জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনায় না নিয়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়েছে। এতে জনগণের জীবন-যাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। তিনি বলেন, গণযন্ত্রণা আরও বাড়ানোর জন্য সরকার দেশের সকল জাতীয়, আঞ্চলিক, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এবং ২০০ মিটার ও এর অধিক লম্বা সকল সেতুতে যান চলাচলের জন্য টোল আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত জনগণের ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’-র অবস্থা সৃষ্টি করবে। এতে সকল গণপরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে সকল প্রকার পণ্যমূল্য তথা জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বহুগুণে। সাইকেল, রিকশা, ভ্যানগাড়িকেও টোল আদায়ের আওতাভুক্ত করে সরকার সম্পূর্ণভাবে গরিব মারার নীতিই অবলম্বন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সড়ক-মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে ভয়াবহ জটে যেখানে মানুষের চলাচল নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘœ নয়, সেখানে রাস্তার টোল ধার্য্য করা গণবিরোধী নীতিরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়েছে অনেক আগেই। এই গণবিরোধী ‘টোল নীতিমালা-২০১৪’ অনুমোদনের মাধ্যমে এই অবৈধ, গণবিরোধী সরকার তাদের অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্মও প্রমাণ করলো। সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার কোন ট্যাক্স বা টোল ধার্য করার আগে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতো দেশের জনগণের সেই ব্যয়ভার বহন করার ক্ষমতা আছে কিনা। কিন্তু এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, বরং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া স্বঘোষিত এক অবৈধ, অগণতান্ত্রিক দানবীয় সরকার। সেজন্যই জনগণের মতামতের বিন্দুমাত্র মূল্যও তাদের কাছে নেই। ক্ষমতার চিরস্থায়ী ও জনগণের সম্পদ লুটপাট করাই এই অবৈধ সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য।
সরকারের গণবিরোধী টোল আদায়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের জনগণের দুর্ভোগ-দুরবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে গণবিরোধী এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় দেশের জনগণ এই গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে শিগগিরইই তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।


আরোও সংবাদ