সৎ ও আর্দশ রাজনৈতিক নেতার প্রতিকৃত শফিকুল ইসলাম চৌধুরী

প্রকাশ:| বুধবার, ২৫ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০৬:০৪ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাউজান পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী গত ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর বাধ্যকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেন । মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে রাউজানে হাজার হাজার মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সেদিন । মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর জানাজার নামাজ রাউজান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে অনুষ্টিত হয় । জানাজার নামাজে শোকাহত হাজার হাজার মানুষ অংশ গ্রহন করেন । রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাউজান পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে রাউজানের সাধারন মানুষ হারালো তাদের একজন আর্দশবান নেতাকে । রাউজানের সাধারন মানুষ কোন সন্ত্রাসীর হাতে নির্যাতন হলে ও সাধারন মানুষের উপর কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হলে তারা ছুটে আসতো মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে । নির্যাতনের শিকার মানুষের কথা শুনে মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী নিযার্তিত মানুষের পাশে দাড়িয়ে অত্যাচারী সে যে হউক না কেন তার বিরুদ্বে অবস্থান নিয়ে নির্যাতিত মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতো । রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাউজান পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয় । ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব দেয় । পরবর্তী ১৯৭৩ সালে তার আত্বিয় মরহুম অধ্যাপক মোঃ খালেদের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেয় । আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে মৃত্যুর সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন । রাজনৈতিক জীবনে তার পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রয় করে রাজনিতি করতো। রাউজানের মুন্সির ঘাটায় সুর্বণা প্রিন্ট্রাস নামে মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর ব্যবসা প্রতিষ্টান ছিল সে ব্যবসা প্রতিষ্টানে বসে রাউজানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালাতো । এই কারনে তার ব্যবসা প্রতিষ্টান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের লালিত সন্ত্রাসীরা । রাজনিতি করতে গিয়ে জেল জুলুম হামলার শিকার হলে ও মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী মৃত্যুর পুর্বে পযন্ত সময়ে কোন অপশক্তির কাছে নত শিকার করেনি । বিএনপি জামাত জোট সরকারের শাসন আমলে মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানাকে বিএনপি জামাত জোট সরকারের তৎকালিন সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান কারী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর লালিত সন্ত্রাসীরা ধরে মারধর করে রাউজান থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয় । তৎকালীন ওসি শফিকুল ইসলাম মুকুল মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে রাউজান থানায় ডেকে নেয় । ঐ সময়ে মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব ছাড়া ও রাউজান পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন । ওসি শফিকুল ইসলাম মুকুল তার অফিসে মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারে বসতে দেয় । ওসি শফিকুল ইসলাম মুকুল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে ফোনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাথে কথা বলতে বলেন । ঐ সময়ে মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী গর্জে উঠে চেয়ার থেকে উঠে ওসি শফিকুল ইসলাম মুকুলকে বলেন আমি সালাউদ্দিনের সাথে কথা বলে নিজের রাজনৈতিক জীবনকে কলংকিত করবনা আমার ছেলেকে আমি আদালত থেকে জামিন নেবো বলে রাউজান থানা ত্যাগ করে বাড়ীতে চলে আসেন । মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী একজন আর্দশ রাজনৈতিক নেতা ছাড়া ও একজন শিক্ষানুরাগী ছিলেন মৃত্যুর পুর্বে মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর ভাগ্নে ফরহাদ গনি নয়নের অর্থায়নে তার বাড়ী সুলতানপুর ছিটিয়া পাড়া এলাকার অদুরে নিজের যে জমি ছিল ঐ জমি ভরাট করে সাজিনা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্টা করেন । সাজিনা চৌধুরী উচ বিদ্যালয়ে ফরহাদ গনী চৌধুরী নয়নের অর্থায়নে কোন বেতন ছাড়া এলাকার দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েদেরকে শিক্ষা উপকরন দিয়ে স্কুল ড্রেস দিয়ে পাড়ানো হচ্ছে স্কুল প্রতিষ্টা থেকে । মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী এক সময়ে ছাদেকের পুল এলাকায় কৃষি খামার গড়ে তোলে । স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ঐ কৃষি খামার করার কারনে বঙ্গবন্দ্বু কৃষি পদক নেয় জাতীর জনক বঙ্গবন্দ্বু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত থেকে । মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর মতো আর্দশবান সৎ রাজনৈতিক নেতা বর্তমান সময়ে পাওয়া খুবই দুস্কর বলে এলাকার সাধারন মানুষ জানান । গত ২০১৬ সালে মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী পবিত্র হজ্ব পালন করে এসে মৃত্যু বরন করেন । আগামী ২৭ অক্টোবর শুক্রবার মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী । ঐদিন মরহুমের বাড়ীতে জেয়াফত ও মেজবানের আয়োজন করেছেন তার স্বজনেরা । ঐদিন বিকালে রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাউজান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাজেদা চৌধুরী হলে শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর স্মরণ সভার আয়েজন করা হয়েছে । স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য গৃহায়ন ও গনপুর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম এ সালাম ।