স্লোগান শোভা পাচ্ছে ফেসবুকে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩০ নভেম্বর , ২০১৮ সময় ০১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নৌকা জিতলে বাংলাদেশ…নৌকা হারলে বাংলা শেষ… এখন সিদ্ধান্ত আপনার। বৈঠা ধরো আরেকবার.. জয় হবে জনতার.. শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিন।
গণতন্ত্রমাতাকে মুক্ত করার শপথ নিন…ধানের শীষে ভোট দিন। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি…বদলে দেবে পরিস্থিতি… ভোট প্রচারণার এই স্লোগানগুলো কোনো পোস্টার ব্যানারের নয়। প্রচারণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ থাকায় মাঠেঘাটে এসব স্লোগান দেখা বা শোনা না গেলেও শোভা পাচ্ছে ফেসবুক তথা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর টাইমলাইনে। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা তফসিল ঘোষণার কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু করেছেন এই ভার্চুয়াল প্রচারণা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’পক্ষের চলছে নেতিবাচক প্রচারণাও। দল দু’টির অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট ছাড়াও নামে-বেনামে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে এসব প্রচারণা চলছে। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

এ নির্বাচন উপলক্ষে মূল প্রচারণার কাজ শুরু হওয়ার কথা ভোটগ্রহণের ২১ দিন আগে। এর মধ্যে যারা নিজের উদ্যোগে পোস্টার-ব্যানার ছাপিয়েছেন কিংবা বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এরই মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে টানানো এসব ব্যানার পোস্টার সরাতে দেখা গেছে। তবে প্রচারণায় ফেসবুক-টুইটার সরগরম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় তুমুল প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ফেসবুকে বিভিন্ন নেতাকর্মীর টাইমলাইনে দেখা যায়, ভোটের প্রচারণায় এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ। প্রচারণার পাশাপাশি দলটির পক্ষ থেকে বিএনপির বিপক্ষে ব্যঙ্গ-মন্তব্য করেও নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। সে তুলনায় বিএনপি’র পেজে ভোট নিয়ে ততটা প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি। অবশ্য কৌশলে কিছু পোস্ট করা আছে যেখানে, অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালের কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির কয়েকটি ফেসবুকে পেজে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এভাবে নামে-বেনামে অসংখ্য অ্যাকাউন্টে ভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সারাবিশ্বে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম টুইটারেও বিভিন্ন প্রার্থী ও দলের নামে ভোট চাওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ফেসবুকে কাভার পেজে যে ছবিটি স্থান পেয়েছে তাতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।

এ পেজটিতেই একটি ইভেন্ট পেজ খোলা হয়েছে যার শিরোনাম ‘৩০শে ডিসেম্বর সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন’। তাতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও শেখ হাসিনা সরকারের গত ১০ বছরের উন্নয়ন নিয়ে নানা ডিজিটাল প্রচারণা চালানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকে। তবে নেতিবাচক প্রচারণা ছিল বিভিন্ন নামে খোলা ফেসবুক পাতায়। আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বিএনপি শাসনামলের সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ নানা বিষয় তুলে ধরে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ভোট দেয়ার আগে একটু ভাবুন’। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের আমলে তারা যেটিকে সাফল্য মনে করছে সেসব বিষয়গুলো তারা তুলে ধরছে। এসব প্রচারণায় সম্প্রতি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা থেকে শুরু করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন অতীতে বিএনপি বা ধানের শীষের বিরুদ্ধে যেসব বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেগুলোও উঠে এসেছে। গত ২৬শে নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর এক বৈঠকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো বিধিনিষেধ নেই।

তাই কেউ চাইলে ফেসবুক তথা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারেন। ওই বৈঠকে ইসি সচিব বলেন, ফেসবুকে প্রচারণার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ আচরণবিধির আওতায় নেই। প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। তবে তা প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবার পর। এর আগে প্রচারণা চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু কোনো কোনো দলের প্রার্থীরা সে নির্দেশনা পালন করছেন না। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নাটোর-৩ আসনের মনোনীত এমপি প্রার্থী ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক গত ২৭শে নভেম্বর তার ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। তাতে উল্লেখ আছে, ‘এক পলকে এগিয়ে যাওয়ার ১০ বছর। সিংড়ার উন্নয়ন চলমান রাখতে নৌকায় ভোট দিন’। শুধু পলকই নন। প্রার্থিতা চূড়ান্তের আগে ফেসবুকে প্রচারণায় সরব বর্তমান সরকারের রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবও। কুমিল্লা-১১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত এ প্রার্থী গতকাল এক ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন- আল্লাহর যদি রহমত হয়, আপনাদের যদি সহযোগিতা পাই, ইন্‌শাআল্লাহ আমরা শতভাগ নিশ্চিত, নৌকার জয় হবেই।