আয়ের উৎস বাড়াতে জেলেরা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ

প্রকাশ:| সোমবার, ২৬ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:৫২ অপরাহ্ণ

indexবরগুনায় আয়ের উৎস বাড়াতে জেলেরা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি শুরু করেছেন। এ পদ্ধতি এ অঞ্চলের মাছ চাষি ও জেলেদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বেকার যুবক, জেলে ও চাষিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পদ্ধতি। নদীনালা, খালবিলে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন দরিদ্র মানুষ। জেলার ছয় উপজেলায় শুরু হয়েছে নতুন মাছ চাষ প্রকল্প। এ জেলায় রয়েছে বলেশ্বর, বিষখালী, পায়রা, বুড়িশ্বর ও আন্ধারমানিক নদী। এছাড়া রয়েছে শতাধিক ছোট-বড় খাল। এ কারণে স্থানীয়দের অধিকাংশের জীবিকা নির্ভর করে মাছ চাষের ওপর। প্রায় সারা বছর এসব নদী আর খালে মাছ ধরে থাকেন অধিকাংশ অধিবাসী। কিন্তু ইলিশের প্রজনন মৌসুমসহ বিভিন্ন সময় নদীতে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে তারা জীবিকা নিয়ে বিপাকে পড়েন। জীবিকার তাগিদে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরেন। অনেক সময় তাদের জাল ও নৌকা আটক করা হয়।

বামনা উপজেলার আমুয়া খালে স্থানীয় মাছ চাষি গোলাম মোর্শেদ স্বপন এ ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। মুক্ত জলাশয়ে তিনি ৮০টি খাঁচা দিয়ে গড়ে তুলেছেন এ প্রকল্প। স্বপন জানান, এ পদ্ধতিতে ২০০ বর্গফুটের প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে তার খরচ? পড়েছে ১৬ হাজার টাকার মতো। প্রায় ১০ বছর টেকসই প্রতিটি খাঁচায় ১ হাজার তেলাপিয়া মাছ রয়েছে। এ খাঁচায় ৪ মাস পর পর চাষ করা যায়। খাঁচাপ্রতি ৪ মাসে ২৫০ কেজি মাছ উৎপাদন করতে তার মোট খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। প্রথমবার তিনি প্রায় ১০ হাজার টাকা লাভ করেছেন। এখন তিনি ২৫ হাজার টাকার বেশি লাভ করছেন। তিনি আরও জানান, শুধু তেলাপিয়া নয়, নদী ও পুকুরের সব প্রজাতির মাছই এ পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। বরগুনা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আলফাজ উদ্দীন শেখ জানান, পুকুরের তুলনায় খাঁচায় মাছ চাষ করলে একদিকে যেমন খাবার সাশ্রয় হয়, অন্যদিকে মাছের বৃদ্ধিও হয় প্রায় দেড় গুণ। এছাড়?া প্রাকৃতিক পানির সরবরাহ ও স্রোতের কারণে মাছের রোগব্যাধিও অনেক কম হয়। ফলে চাষিদের বাড়তি সার ও ওষুধ প্রয়োগ করতে হয় না। তেমনি মাছের মৃত্যুঝুঁকিও থাকে খুব কম। এ বিষয়ে বামনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা জানান, নদীতে মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুমে জেলেদের এ চাষ পদ্ধতির আওতায় আনলে একদিকে যেমন জেলেদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হবে, তেমনি রক্ষা পাবে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হলে এলাকাবাসী আর্থিকভাবে লাভবান হতেন।