স্বার্থপর

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই , ২০১৬ সময় ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

আমিনুল ইসলাম রাব্বি: স্বার্থপর শব্দটা আমাদের সকলেরই জানা আছে.. জান্তে-অজান্তে ,হাসি-ঠাট্টায়,কারনে-অকারনে,মান-অভিমান যে কোন কারনেই হোক না কেন জীবনে একবার হলেও শব্দটা কারো না কারো জন্য ব্যাবহার করেছি… আমার মতে পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই স্বার্থপর.. আমি/আপনি আমরা সবাই.. কেউ যদি নিজেকে স্বার্থপর মানতে রাজী না হয় তাহলে আমি তাকে মানুষ মানতে রাজী না.. . মা-বাবাও স্বার্থপর.. অবাক হওয়ার কিছু নেই, কিভাবে…? আপনার মা-বাবা আপনাকে এত কষ্ট করে লালন পালন করে বড় করেছে তার একটাই কারন, আপনি তাদের সন্তান.. এই ” তাদের সন্তান ” শব্দটাই স্বার্থপরতা…! কই অন্য কারো সন্তানকে তো আপনার মা-বাবা আপনার মত আদর যত্ন করেনি.. আপনার জন্য আপনার মা-বাবার সব কষ্টের পিছনে “তাদের সন্তান” নামক স্বার্থটাই ছিল…!! . বন্ধু-বান্ধব.. তারা আপনার সব বিপদে পাশে থাকলেও একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে তারাও স্বার্থপর… তারা আপনার বিপদে কেন এগিয়ে আসে জানেন..? কারন জান্তে-অজান্তে তারা মনে মনে এটা ধারনা করে রাখে যে তারা আজ আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসা মানে তাদের কোন সমস্যায় আপনাকে পাবে… চিন্তাটা তারা মনের অজান্তেই করে ফেলে… ব্যাপারটা নিয়ে অনেকে দ্বিমত পোষন করলেও এটাই সত্যি.. আর যদি সত্যি নাও হয় তাহলে মা-বাবার থিওরিটা প্রয়োগ করে দেখেন হিসাব মিলে যাবে… শুধু তাদের বন্ধু অথবা তাদের বন্ধুর বন্ধু বলে আপনার সাহায্যে সে এগিয়ে এসেছে…! . কষ্ট করে নিজের গার্লফ্রেন্ড/বউকে এটা সেটা দিচ্ছেন..? ভালোই তো..!! অন্যের গার্লফ্রেন্ড/বউকে কি কিছু দেয়া যায়..? তার চেয়ে আরো কম কষ্টে…? থাক , উত্তরটা আপনার নিজের কাছেই রাখুন…!! . সওয়াবের আশা ছেড়ে দিয়ে মানবতা দেখিয়ে নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে কয় দিন অন্যের মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে খাবার দিয়ে আসবেন..? . ধনীরা যে গরীবদের সাহায্য করে এখানেও মারাত্নক রকম একটা স্বার্থপরতা আছে.. একদল ধনী আছে যারা লোক দেখানো সাহায্য করে নিজের নামের পিছনে সন্মানের লগো লাগাতে চায়.. আবার একদল ধনী আছে যারা লোক দেখানো সাহায্য করে না, কিন্তু তারা আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টি লাভের আশায় সাহায্য করে.. সাওয়াব বা আল্লাহর সন্তুষ্টি না থাকলে কয় জন ধনী ব্যাক্তি গরীবকে সাহায্য করত তা নিয়ে আমার যত সংশয়.. . তদ্রুপ গরীবরা যে ধনীদের আলগা একটা সন্মান করে তাও স্বার্থের ভিতরই পড়ে.. সহানূভুতি বা করুনা পাওয়ার স্বার্থ… কই ? কোন গরীবকে তো দেখি না মধ্যবিত্ত বা তার মত গরীব কাউকে ওই ধনী ব্যাক্তিকে দেয়া সন্মানের মত করে সন্মান করতে..!! . পরিশ্রমের বিনিময়ে অফিস থেকে মাস শেষে টাকা নেন , আপনার এবং আপনার অফিসের মালিক দুই জনেরই স্বার্থ বিদ্যমান… যার সাথে ব্যাবসা করে লাভবান হন তার সাথে সারা জীবনের ব্যাবসা চুক্তি করার যে ভূত আপনার মাথায় চাপে তাও কি স্বার্থের ভিতরে নয়..? . পৃথিবীতে ধর্মের ভাই-বোন/ মা-বাবা বলতে কিছুই নেই.. সবই প্রয়োজন মিটানোর বাহানা মাত্র.. যেই বেচারার কেউ নেই সে তো চাইবেই ধর্মের দোহাই দিয়ে মা-বাবা ভাই-বোন বানিয়ে না পাওয়া আদর স্নেহের ভাগটা পেয়ে নিতে.. এতে তার কোন দোষ নেই , সবই নিয়তি.. সেই অভাগার ধর্মের দোহাই দিয়ে আত্নীয়তা বানানোর কৌশলটাকে তার স্বার্থপরতা বললে ভুল হবে না নিশ্চই…! . সারা রাত ইবাদত করেন,সৃষ্টিকর্তার নিকট এটা ওটা চান, আমি তো বলব তাতেও স্বার্থের ব্যাপারটা থেকেই যায়.. জন্মের পর থেকে যদি এটা শিখতেন যে ইবাদত করলে কোন সওয়াব হয় না, সৃষ্টিকর্তার নিকট চাইলে পাওয়া যায় না..সারা রাত দূরে থাক, কয় মিনিট সময় ইবাদত করে ব্যয় করতেন..? নিজেকে প্রশ্ন করে দেখবেন..! . একটা মানুষ মারা গেলে তাকে কিভাবে তারাতারি কবর দেয়া হবে এটা চিন্তা করা হয়.. সবাই বলবে যত তারাতারি কবর দেয়া হবে তত আজাব কম হবে তাই এমনটা করা হয়…! আমি বলি কি..! ধরে নিন মৃত ব্যাক্তিকে কবর না দিলে গুনাহ্ হবে না…! আপনি কি পারবেন আপনার দাদার লাশটা সারা বছর ঘরের এককোনে রেখে দিতে..? পারবেন না.. কারন লাশটা ২/৩ দিন পরই গন্ধ হয়ে যাবে যা আপনার সুগন্ধযুক্ত ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করে দিবে.. আজাব…? সে তো একটা বাহানা মাত্র..!! . এই পৃথিবীতে আমি আপনি আমরা সবাই কম বেশি স্বার্থপর..! স্বার্থপরতার পর্দা ছিড়ে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারে নি কেউই…! তাই আমি স্বার্থপর না… এই ধরনের বোকার মত কথা না বলে, স্বার্থের ভিতর থেকে কতটা নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে গেলেন সেটা নিয়ে চিন্তা করুন…!