‘স্বাধীনতা একবারই আসে তাকে রক্ষার জন্য বারবার লড়াই প্রয়োজন’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতা একবারই আসে ২
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বিজয় মঞ্চের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এম .পি বলেছেন, স্বাধীনতা একবারই আসে তাকে রক্ষার জন্য বারবার লড়াই প্রয়োজন। কারণ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা এখনো রন্দ্রে রন্দ্রে লুকিয়ে আছে। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের সাথে সমস্ত সামাজিক সম্পর্ক বয়কট করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা আমাদের স্বাধীনতার মাইলফলক। তিনি যেদিন এই চট্টগ্রাম থেকে ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন সেদিন থেকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধু ৯ মাসের নয়, ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াইয়ের ফসল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেশখ্যাত নাট্যজন ও চলচ্চিত্রকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেছেন, সাংস্কৃতিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম।
স্বাধীনতা একবাররই আসে
বঙ্গবন্ধু সেই চেতনাবোধ থেকেই তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়নের পরম্পরায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছেন। তিনি আজ সন্ধ্যায় বিজয় মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে না। এটা প্রমাণিত হয়েছে ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতিসত্তার উদ্ভবের মাধ্যমে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার শাহাবুদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জ্যোতি প্রকাশ দত্ত, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আলহাজ্ব বদিউল আলম, মোহাম্মদ ইউনুছ, নারীনেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, মশিউর রহমান চৌধুরী, আবু তাহের, অমল মিত্র, পান্টু লাল সাহা, মহিউদ্দিন বাচ্চু, দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, এম.আর.আজিম প্রমুখ। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয় ঘটিয়েছে ৭১ এর পরাজিত অপশক্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সেই বিপর্যয় থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। তাই তার দুই হাতকে শক্তিশালী করতে আমাদের প্রত্যেককে মাতৃ মুক্তিপণে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বলেন, আমাদের বাঙালি জাতিসত্তা রক্ষায় নিজেদের মধ্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির বন্ধনে অটুট থাকতে হবে। আজ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াইয়ে আরেকটি যুদ্ধে শামিল হয়েছে। এই লড়াইয়ে অবশ্যই আমাদেরকে জিততে হবে।

আলোচনা সভা শেষে নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’ প্রদর্শিত হয়। এর আগে বিজয় মঞ্চে শেখ শহিদুল আনোয়ার ও তপন বড়–য়ার ব্যবস্থাপনায় উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

আগামীকাল বিজয় মঞ্চে চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী জনাব শামসুর রহমান শরীফ এম.পি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ টেলিভিশন এর মহাপরিচালক জনাব আব্দুল মান্নান ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন একাত্তর টেলিভিশনের ব্যুরো চীফ জনাব মাঈনুদ্দিন দুলাল।


আরোও সংবাদ