স্বাধীনতার আমার অহঙ্কার : লাল সবুজ পতাকা আমার গর্ব শরীফ সাথী

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ১৯ মার্চ , ২০১৮ সময় ১১:৩১ অপরাহ্ণ

১৯৭১ সালের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের বেদনাবিধূর পরিবেশ। ছেলেহারা মায়ের করুণ আহাজারি আর্তনাদ। সম্ভ্রম হারানো বোনের আর্তচিৎকার আজকের এই লাল সবুজের স্বাধীন পতাকার জন্য। তাই কবি কণ্ঠে বলতে পারি, “লাল সবুজের ওই পতাকা দেখছি সবাই আজ/বীর শহীদের রক্ত দিয়ে করা কারুকায/ মা বোনেদের চক্ষু ফাটা ঝরা অশ্রু রেষ/ বিজয় ধ্বনির সঙ্গী আমার স্বাধীন বাংলাদেশ।”
বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেসকোর্স ময়দানে তর্জনী উঁচানো বিশ্ব স্বীকৃত বজ্রভাষণ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ শুনে আজো আমরা চেতনা ফিরে পায় সেদিনের। মার্চ মাসটি এলেই জাগ্রত হয় মনন প্রবৃত্ত। স্মৃতিস্বরুপ মুখে আসে ছন্দের বানী, “শহীদ সেনার চেতনাতে বাঙালি মন ঢেলে/ চির-সবুজ এই বাংলায় চোখেরই জল ফেলে/রক্ত ঝরা মার্চ এসেছে স্মরণ করে দিতে/ একাত্তরের দিন গুলিকে বরণ করে নিতে/রক্ত ঝরা মার্চ এসেছে বাংলাদেশ’ কি বলতে/ কেমন করে স্বাধীন হলো স্মৃতি নিয়ে চলতে।” লাল সবুজের এই স্বাধীন পতাকার জন্য সেদিনের সেই বুলেটবিদ্ধ পঙ্গুত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণীয় চেতনার উদ্ভাস বাঙালির শত স্বপ্ন সাধনার আরাধনার স্বাধীনতার স্লোগান। পৌশাসিকের ছোবল খাবল অন্যায় অবিচার শাসন শোষণ দূষণ নিষ্ঠুর নির্মম দূর্বিসহ জীবন থেকে এদেশের জনতার সোনালী রঙিন স্বপ্নের আভায় কল্পনায় আল্পনায় গাঁথা স্মৃতিফ্রেম প্রীতিপ্রেম
ক্ষতাক্ত রক্তাক্ত দগ্ধ বেদনার দাবানলে পোড়া এই বাংলাদেশ। জনতার কঠিন বাস্তবতার পরিক্ষা দিয়ে পেরিয়ে আসা শুধু মাত্র বিজয়োল্লাসে উর্ধ্ব গগনে মুক্ত বাতাসে দোল খাওয়ানো আবেগ আপ্লুত কথা-আমি স্বাধীন বাতাসে উড়ছি। সম্ভাবনাময়ী স্বপ্নোজ্বল এই বাংলাদেশের বুকে। দেশ দেশান্তরের আঁকাবাঁকা পথে অপরূপা ছোঁয়ায় মুগ্ধ হয়ে ঘুরছি আকাশের নীলিমা ঘুরে ঘুরে। যে মুক্তির মুক্ত বাতাস দিয়েছে বীর বাহুবল এদেশের বীর সেনারা। এদেশের স্মরণীয় বরণীয় ইতিহাস চির অম্লান একাত্তরের স্মৃতি চিহ্ন পাতায় ভেসে ওঠে লাখো শহীদের রক্তে ভেজা স্পর্শকাতর এই মাটি। সম্ভ্রম হারানো মা বোনের নিদ্রাহীন জ্বলন্তময়ী চোখ। পৌশাচিকের বিষাক্ত ছোঁবলের বিঁষ শোধন করে, দূষণ মুক্ত করে স্বাধীনতার এই বাংলাদেশ আজ কুলোষ খোলস পাল্টানো সোনা ফলা স্বর্ণালী অপরূপ শোভায় স্বাধীন স্বার্বোভৌম রাষ্ট্র। যে দেশে আজ নির্দিধায় ঘুরছি আমি স্বাধীন বাতাসে উড়ছি। আবেগ স্বরে ছন্দ এসে যায়- “বুকের রক্ত ঢেলে মাগো বুকের রক্ত ঢেলে/ স্বাধীন সবুজ দেশ দিয়েছে তোমারই বীর ছেলে/এই কমলে মিশে আছে বীর শহীদের রেষ/ ন’মাস ধরে যুদ্ধ করে গড়তে স্বাধীন দেশ/ একাত্তরে আঁকা ছবি ফুল ফসলে ফোঁটে/ রক্ত ঝরা বক্ষ নিয়ে নবীন সূর্য ওঠে/ শোক বেদনা চাপা দিয়ে চোখের অশ্রু ফেলে/ স্বাধীন সবুজ দেশ দিয়েছে তোমারই বীর ছেলে।” গড়ে যাওয়া এ বঙ্গ আমার সঙ্গী। আমি দু’চোখ ভরে দেখতে চাই আমার এই মমতাময়ী বঙ্গের সবুজ শ্যামলের বনে, ফুল ফসলের বাতাসে দোল খাওয়া অপূর্ব মুখ। গাছে গাছে পাখিদের অপরূপ ছন্দসুর, যে সুরের ছোঁয়ায় হয় আমার মনের সমস্ত মন্দদূর। ফুলে ফুলে সজ্জিত সুমিষ্ঠ সুঘ্রানে
প্রাণ জুড়ায় আমার। আমি দেখতে চাই স্বাধনি এই দেশের আঁকাবাঁকা পথের দু’ধারের সবুজ বৃক্ষের সারি। রোদ্রুরের খরতাপে মায়াময় ছায়ায় বসে বসে প্রকৃতির বৈচিত্রতা। নদীর থৈ থৈ জলে হাঁস মাছ পদ্ম শেওলার, মাঝি মাল্লার আমোদ প্রমোদের নিদারুন শোভা। নদী তীরে পশু চরানো রাখাল বাঁশির দেশ মাতৃকার সুরে বিমোহিত হয়ে কল্পনাকে প্রশস্ত করে স্বপ্নের সীমানায় পাড়ি দিতে দিতে স্মৃতির মোহনায়
দক্ষতার গতিতে স্বাক্ষর করে আঁকতে চাই স্বাধীন বাংলাদেশের বৈচিত্রময় ছবি। যে ছবি কথা বলে যুগে যুগে এ বঙ্গেও অপার সম্ভাবনাময়ী উজ্বলতার আলোকে। আর বলতে চাই- “আমার দেশের বুকের মাঝের
সবুজ শ্যামল ঘাসে/মিশে যেন শহীদ সেনার মুখের ছবি ভাসে/নীল আকাশের ওই পতাকার রক্তিম আলোয় হাসে/মমতাময় বঙ্গ মাটি চেয়ে ভালবাসে/পুষ্পরাজির সুবাস হয়ে বঙ্গ জুড়ে আসে/দিবা-রাতি সঙ্গের সাথী হয়ে বার মাসে/পাখির গানের ছন্দ হয়ে কৃষকের হাল্ চাষে/মিশে থেকে আপন ভূমি দ্যাখে অনায়াসে/আমার তোমার এ বাঙালির শহীদ সেনা ভাই/স্বাধীন সোনার এ বাংলাদেশ নয়ন ভরে চাই।
নদী তীরে বসে প্রকৃতি চেয়ে দেখলে বলে আমায়, আমি এসেছি ফিরে মাগো..আমায় চেয়ে দ্যাখো আমি আবার এসেছি দেখতে এই বাংলার স্বাধীন পতাকা আজ বাতাসের ঢেউয়ে কিভাবে উর্ধ্বে পত পত করে উড়ছে। নিজ স্বার্বভৌমত্বে স্বাধীনতার সুখে এ বাংলাদেশ আজ কেমন আপ্লুত হচ্ছে। স্বাধীনতার সুঘ্রাণ নিতে বৈচিত্রময় স্বর্নালী রূপালী সবুজে ছাওয়া এই বাংলাদেশে। একাত্তরের রক্ত¯œাত যুদ্ধে শহীদ হয়েছি মাগো..লাল সবুজ পতাকা উড়াতে স্বাধীনভাবে চলতে,স্বাধীন কথা বলতে আমি এসেছি ফিরে মাগো..আমি দেখতে এসেছি এই বাংলাকে কিভাবে বাংলার জনতা আমাদের স্মরণ করে আমাদের বরণ করে, স্মৃতিচারণ করে বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়। কিভাবে জয় বাংলা জয় বাংলা বলে স্লোগান দিয়ে রাজপথ মিছিলে মিছিলে একাকার হয়। শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। ফুল ফল নদী জল টলমল
সবুজ শষ্য শ্যামল ফসল বি¯তৃর্ণ ভূমি বঙ্গতুমি কেমন আছো? কতটুকু হাসি বাঁশির সুরে সবুজের ঢেউয়ে ট্যুরে ট্যুরে ঘুরে বেড়ায় এ মনহর বঙ্গে, সঙ্গে মায়াময় ছায়াময় ষড়ঋতুর মনোরম লোকেশন,কিভাবে কাড়ে মন আমি দেখতে এসেছি মাগো..। ত্রিশ লক্ষ শহীদের পক্ষ থেকে আমি আবার এসেছি ফিরে
আমি দেখতে এসেছি এ বাংলাকে।দেখতে এসেছি দুখিণী মায়ের হারানো আর্তনাদ সম্ভ্রম হারানো বোনের করুণ বেদনার্ত জীবনের বর্ণাঢ্য কাহিনীর চিত্র কিভাবে আজ প্রজ্বলিত এই বাংলায়। চোখের অশ্রু বিছিয়ে
হৃদয়ের পটভূমিতে জমানো একাত্তরের প্রকৃত ইতিহাস তরুণ প্রজন্মকে কিভাবে আকৃষ্ট করেছে তাই দেখতে এসেছি। স্বপ্নময়ী কল্পনার জগতে ঘুরলেই ভেসে ওঠে দুচোখে হাজারো স্মৃতি। ঠোঁট চিরে বেরুই-
“সবুজ বুকে শহীদ সেনার রক্ত মিশে/বাংলা নামের ফুল ফুঁটেছে সকল শীষে/স্বাধীন হাওয়া দিচ্ছে দোলা তার শরীরে/অপলকে দেখছি চেয়ে তাই অধীরে/একাত্তরের কালজয়ী সেই স্মৃতি মণি/মা বোনেদের কান্না ভেজা কণ্ঠ ধ্বনি/মমতাময় রুপের ছোঁয়ায় আজতো বেশ/সবুজ শ্যামল স্বর্নফলা বাংলাদেশ।” আমার স্মৃতি প্রীতি মায়া মমতার স্বপ্ন ছায়ার স্বাধীনতার এ বাংলাদেশ আমার অহঙ্কার, লাল সবুজের পতাকা আমার গর্ব।