স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় মামলা, আসামি তিন পুলিশ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৫:৪২ অপরাহ্ণ

স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় ঢাকার রামপুরা থানার উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মধ্যরাতে পুলিশ বাদী হয়ে রামপুরা থানায় মামলাটি করে।

এই তিন আসামি হলেন রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী ও ওয়াহেদুল ইসলাম।

এর আগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে লিখিত অনুমতি চায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দুদক গতকাল অনুমতি দেয়। এরপর গতকাল রাতেই এ ঘটনায় মামলা হয় বলে জানিয়েছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন।

গতকাল সোমবার প্রথম আলোতে ‘সোনা চোরাচালানে পুলিশ জড়িত!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনা চোরাচালানিদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন কর্মকর্তার যোগাযোগ রয়েছে। চোরাই সোনা পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চোরাচালানিরা ওই কর্মকর্তার সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেন। সোনা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। আদালত সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা হলেন রমনা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) এস এম শিবলী নোমান। যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি সোনা চোরাচালানিদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করিনি। তা ছাড়া যে এলাকায় সোনা ধরা পড়েছে, সেটা আমার এলাকাও নয়।’

গত ১৩ মার্চ রামপুরা থানার পুলিশ ২৩৫টি সোনার বারসহ একটি গাড়ি আটক করে। এরপর ১৬৫টি বার আত্মসাত্ করে অন্যগুলো উদ্ধার দেখানো হয়। এ ঘটনা জানাজানির পর রামপুরা থানার তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানার ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালাকে প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগ ওঠে, সোনা চোরাচালানিদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। ডিবি এ ঘটনা তদন্ত করছে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, সোনা আত্মসাতের ঘটনায় চার পুলিশের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন তাঁরা। তাঁরা হলেন ওসি কৃপা সিন্ধু বালা, উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী ও ওয়াহেদুল ইসলাম। ওসি ছাড়া অন্য তিনজন এখন কারাবন্দী।