স্বর্ণবার গলিয়ে রঙ পরিবর্তন করেও ধরা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ১ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী স্বপন চন্দ্র নাথ। বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে করে রোববার সকাল সোয়া ৯টায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

অন্যান্য যাত্রীর মতো তিনি নিজের লাগেজ নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছিলেন। কিন্তু বিপত্তি বাধলো স্ক্যানার মেশিনের কালো ইমেজ। এতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। ফলে লাগেজ পেতে স্বপনকে অপেক্ষা করতে বলা হলো।

যাত্রীদের চাপ কমলে স্বপনের লাগেজ আবারও স্ক্যান করেন দায়িত্বরত কাস্টমস কর্মকর্তারা। তখনও মেটাল জাতীয় কিছুর উপস্থিতি পান তারা। সন্দেহ ঘনিভূত হলে লাগেজ খুলে তল্লাশি করে ১৩ কেজি স্বর্ণ পাওয়া যায়। যা ২৮টি স্বর্ণবারকে গলিয়ে রঙ পরিবর্তন করে কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ধরনের অভিনব কায়দায় স্বর্ণ আনার নজির নেই বলেও মন্তব্য করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার (বিমানবন্দর) উত্তম বিশ্বাস, স্বপন চন্দ্র লাগেজে দুটি হেমার, একটি হেয়ার ড্রায়ার ও একটি বেকুয়াম ক্লিনার ছিল। এই চারটি যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ খুলে ওই যন্ত্রাংশের আকার অনুযায়ী গলানো স্বর্ণবার ঢুকিয়ে দিয়েছেন। কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিতে সোনালী রঙ পরিবর্তন করে সিলভার কালার করা হয়েছে। এ ধরনর অভিনব কায়দা আগে চোখে পড়েনি।

এদিকে বিমানবন্দরে বারবার স্বর্ণের চালান আটক হলেও মূল হোতারা রয়ে যাচ্ছেন ধরাছোয়ার বাইরে। তাদের কোনভাবেই আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। স্বর্ণগুলো আটকের পর বহনকারীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেই দায়িত্ব সারছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে পুলিশও এসব বিষয় নিয়ে তদন্তে আগ্রহী নয়। ফলে বিমানবন্দরে ধরা পড়লেও থানা থেকে সহজে ছাড়া পাচ্ছে চোরা চালান চক্রের সদস্যরা।

জানতে চাইলে উত্তম বিশ্বাস বলেন, পুলিশকে সোপর্দ করার পর তদন্ত করা তাদের দায়িত্ব। কারা জড়িত তা পুলিশ দেখবে। আমাদের সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেই।

স্বপন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ধরা পড়ার পর সবাই একই কথা বলে। বহনের দায়িত্ব নিয়েছে। তবে কে দিয়েছে সে বিষয়ে কথা বলেনি।

এদিকে কাস্টমসের একটি সূত্র জানিয়েছে, স্বর্ণের বড় চালান পার করতে তুলনামূলক ছোট চালান ধরিয়ে দেওয়া হয়। এটি চোরা চালান চক্রেরই একটি কৌশল। বিষয়টি স্বীকার করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, বড় চালানের মধ্যে এ ধরনের কৌশল থাকে। আটক চালান নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লে অন্যদিকে আরও দুয়েকটি চালান পার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে ম্যানেজ করেই করা হয়।


আরোও সংবাদ