স্বপ্ন পূরণে ব্যাট-বলের উৎসবে মাতবেন চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীরা

প্রকাশ:| শনিবার, ৮ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:০৬ অপরাহ্ণ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সাত মাস পর আবারো ব্যাট-বলের উৎসবে মাতবেন চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীরা। ইতিহাস গড়ে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি চাঙ্গা টাইগারশিবির। একই হাল দর্শকদেরও। এক ম্যাচ হাতে রেখে খুলনাতেই টেস্ট সিরিজ জয় করেছে মুশফিকবাহিনী। আর তাই চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় বাংলাওয়াশের জন্য।

সেই স্বপ্ন নিয়েই শনিবার রাত পৌনে ৯টায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রেখেছে টাইগাররা। সঙ্গে আছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলও। শেষ ম্যাচ জিতে মান বাঁচানোর জন্য মরিয়া জিম্বাবুইয়ানরা ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ খেলতে এলো চট্টগ্রামে।

বিসিবির লজিস্টিক কো-অর্ডিনেটর তন্ময় চৌধুরী বলেন, ‘শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে একটি বেসরকারি ফ্লাইটে করে খুলনা থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তজার্তিক বিমান বন্দরের পৌঁছায় দু’দলই। বিমান বন্দরে দু’দলকে স্বাগত জানান বিসিবির কর্মকর্তা ও স্থানীয় আয়োজকরা।’

জিম্বাবুয়েকে বাংলাওয়াশের স্বপ্ন পূরণে দলের চাঙ্গা মনোবলের সঙ্গে মুশফিকদের বাড়তি সাহস যোগাবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামটি। কারণ, এ স্টেডিয়ামটি টাইগারদের পয়মন্ত ভেন্যু বলেই পরিচিত।

দর্শকের মনে উৎসবের এতো আয়োজন কিংবা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের সব প্রস্তুতি থাকলেও থেকে যাচ্ছে ফ্লাড লাইট বিড়ম্বনায় ব্ল্যাক আউট কেলেঙ্কারির লজ্জার শঙ্কা। আয়োজনের দিক থেকে বরাবরই চট্টগ্রাম এগিয়ে থাকলেও গত বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন সময়ে ফ্লাড লাইট বিড়ম্বনায় বিশ্ব মিডিয়ায় চট্টগ্রামের সুনাম ক্ষুন্ন হয়। তবে এবার সেই ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার ফজলে বারী খান রুবেল।

তিনি বলেন, ‘গতবার ভাড়া করা জেনারেটর থেকে ব্ল্যাক আউট সমস্যা হয়। কিন্তু এবার কোনো জেনারেটর রাখা হচ্ছে না। সরাসরি পিডিবির লাইন থেকেই ফ্লাড লাইট জ্বলবে।’

এ প্রসঙ্গে পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় গ্রিডে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সমস্য না হয় আশা করি স্টেডিয়ামে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে অনুষ্ঠেয় একটি টেস্ট ও দুটি একদিনের ম্যাচের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিসিবি।

আগামী ১২ নভেম্বর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এরপর একই ভেন্যুতে ২১ ও ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দুটি ম্যাচেও অংশ নেবে টাইগাররা। এরআগে ১৯ নভেম্বর একটি একদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেবে দুদল। টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচকে কেন্দ্র করে মাঠের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছে বিসিবি।

রোববার সকালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করার কথা রয়েছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট দলের। অন্যদিকে বিকেলে একই ভেন্যুতে অনুশীলন করার কথা রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে থাকা মুশফিকদের।

এ প্রসঙ্গে বিসিবির সহ-সভাপতি ও ভেন্যু কমিটির চেয়ারম্যান আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন ব্যাট-বলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় চট্টগ্রামবাসী।’

জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশের সিরিজ নিয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে সিএমপি। স্টেডিয়াম এলাকাকে ঘিরে ৬ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের যাতায়তের রাস্তায় বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মাঠে প্রবেশের ক্ষেত্রেও দর্শকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে সিএমপির পক্ষ থেকে।

এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর) মাসুদ উল হাসান বলেন, ‘ক্রিকেট সিরিজকে কেন্দ্র করে সকল ধরনের নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সিরিজ চলাকালীন সময়ে নিরপত্তায় আড়াই হাজার পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবে। খেলাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা না ঘটে সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি থাকবে।’

শেষ টেস্ট ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ২০ টাকা নির্ধারণ করেছে বিসিবি। জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারির টিকিটের দাম রাখা হয়েছে প্রতিদিন ২০ টাকা। আর পশ্চিম গ্যালারির টিকিটের দাম ৫০ টাকা। ক্লাব হাউজের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৭৫ টাকা। ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি ৭৫ টাকা, রুফটপ ৩০০ টাকা, গ্রান্ড স্ট্যান্ড ৩০০ টাকা এবং হসপিটালিটি বক্স ১০০০ টাকা। ওয়ানডে ম্যাচের জন্য পূর্ব গ্যালারির টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। পশ্চিম গ্যালারির টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। ক্লাব হাউজ ৩০০ টাকা, ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি ৩০০ টাকা, রুফটপ ১০০০ টাকা, গ্রান্ড স্ট্যান্ড ১০০০ টাকা এবং হসপিটালিটি বক্স ৩০০০ টাকা। বিসিবির টিকিট পার্টনার ইউসিবিএলের চট্টগ্রামের মুরাদপুর, দামপাড়া, আন্দরকিল্লা এবং হালিশহর শাখায় টিকিটে বিক্রি করা হবে।