স্বপ্ন দেখি একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার

প্রকাশ:| রবিবার, ২০ নভেম্বর , ২০১৬ সময় ১০:১৭ অপরাহ্ণ

প্রতিবেদন সংগ্রহঃ হোসেন বাবলা
১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মূলনীতি অনুসারে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন নতুন প্রজন্মের উদীয়মান ছাত্র নেতা আবু নাছের জুয়েল। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে ভাবে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তাতে যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে।তাহলেই ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন অবশ্যই সম্ভব হবে। আর এই অর্জন হবে বাংলার আপাময় জনসাধারণের। এক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য পাড়া মহল্লা থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সকলকে আন্তরিক হতে হবে। ধর্মান্ধ কুচক্রিদের কঠোর হস্তে প্রতিহত করতে হবে। মনে রাখতে হবে ধর্মের দোহায় দিয়ে অযথা জাতি বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য কোন ভাবে এই স্বাধীন সার্বভৌম ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সাংবিধানিক ভিত্তি নস্যাৎ করতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে প্রচলিত আইনকানুনকে আধুনিকায়ন করে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেহেতু মানুষের জন্য আইন, আইনের জন্য মানুষ নয়। সেহেতু মানবিক অধিকার নিশ্চিত করনে সকল অপরাধের ক্ষেত্রে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমভাবে শাস্তি প্রদানের জন্য আইনের প্রয়োগ করতে হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে সামাজিক কর্মকান্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি সমাজ ও রাষ্ঠ্রের প্রতি আমাদের অনেক দায়বদ্ধতা। সমাজকে পাল্টাতে হলে আগে নিজেদের দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টাতে হবে সে ক্ষেত্রে আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে অন্তত প্রতিদিন একটি ভাল কাজ করি তাহলে সমাজ থেকে অনেক অসামাজিক ও অনৈতিক অপকর্ম কমে যাবে। আমি সমাজের অবহেলিত হত দরিদ্র পরিবার ও পথশিশুদের আলোকিত মানুষ করতে তাদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ,শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ সামগ্রী বিতরণ, সাধারণ মানুষকে স্বদেশীয় পন্য ক্রয় করার উৎসাহ দেওয়া, স্বেচ্চায় রক্ত দান কর্মসূচি অতীতেও পালন করেছি এবং এর ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত রয়েছে পাশাপাশি মাদকমুক্ত ও জঙ্গিবাদ বিরুদ্ধে আমার প্রতিবাদী কন্ঠস্বর কখনোই থামবে না।
একান্ত আলাপ তিনি বলেন,একটি দেশ,জাতি ও সমাজের উন্নয়নে ছাত্র রাজনৈতিক ভুমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পারিবারিক ভাবে অভিভাবকদের,শিক্ষক/শিক্ষকা,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,মিডিয়াসহ সুশীল সমাজকে এগিয়ে এসে স্কুল/কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উৎসাহিত করতে হবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না স্কুল/কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা একদিন দেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাবে। আমাদের এই বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে নতুন প্রজন্মের পানে যারা দেশকে উপহার দিবে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। যেখানে থাকবেনা কোন প্রতিহিংসার রাজনীতি, থাকবেনা লিঙ্গ বৈষম্য, জাতি ভেদাভেদ,দুর্নীতি। সকলেই মিলে এই দেশটাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো। আমি সেই স্বপ্ন দেখি। তবে সে ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি শতভাগ নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে বলেন,যারা শুধু মাত্র লেখাপড়া করেন ভাল চাকুরি কিংবা সার্টিফিকেট অজর্ন করার জন্য তাদের এই ধারণা ভুল। নিজেকে সু শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে না পারলে সু-শিক্ষা অন্ধকারে থেকে যাবে। কারণ যে ব্যক্তির মধ্যে দেশপ্রেম,উদারতা,মানবতা, ত্যাগ,ন্যায়,অন্যায় বোঝার ক্ষমতা থাকে না সেই ব্যক্তি কিভাবে দেশের নেতৃত্ব দিবে ?
রাজনৈতিক পথচলা এবং উৎসাহ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনে যাদের সহযোগিতা আর উৎসাহ না থাকলে আমি হয়তো বেশি দুর এগুতে পারতাম না এখন আমাকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিন এবং চট্টগ্রাম মহানগরে আমি যাদের কাছে জুয়েল নামে পরিচিত হয়েছি তার জন্য সাবেক মহানগরের ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক নাইবুল ইসলাম ফটিক,কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু এবং জাকের আহম্মেদ খোকন ভাই ও বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের এস বি জীবন ,কাজী মাকসুদুল আরেফিন আসিফ ভাই এর নিকট চির কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি আমার প্রতিবেশি, বন্ধু বান্ধবদের সহযোগিতা আমার প্রতি সব সময় ছিল।
একজন আদর্শবান নেতার সম্পর্কে জানতে চাইলে জুয়েল বলেন,ছাত্র রাজনীতিতে কিংবা একজন আদর্শ নিতীবান নেতা হতে গেলে বুদ্ধিবৃত্তিক,বিচক্ষন ও দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি সার্বজনীন চিন্তা,আদর্শের অনুসারী এবং সততা থাকলে নিতীবান নেতা হওয়া সম্ভব। তবে কর্মীবান্ধব নেতার কোন বিকল্প নেয়। যিনি নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে তৃনমূল পর্যায়ে সাধারণ জনতার কাতারে গিয়ে তাদের বিপদ আপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন আমি মনে করি তিনিই একজন সত্যিকারের নেতা।
আলাপকালে তিনি আরো বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনে প্রথমে ২০০৫-০৭ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন কালে ইয়ং ভয়েজ ক্লাব এর অর্থ সম্পাদক এর পদ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। তারপর ২০০৮ সালে ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রলীগের মানবিক বিভাগের সদস্য সচিব ছিলেন এবং ২০০৯-১০ সালে আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ^বিধ্যালয়ে স্বাধীন ভাবে রাজনীতি করতে না পেরে বিবেক নামক একটি সামাজিক সংগঠন তৈরি করেন। ২০১২ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্রলীগের ছাত্র সংসদেও সাথে থেকে সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন বলে তার কাছ থেকে জানা যায়। বর্তমানে তিনি আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষ করে চট্টগ্রাম জেলা আদালতে শিক্ষা নবিশ আইনজীবি হিসাবে কাজ শুরু করেছেন। এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও প্রাণের ৭১ এর চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োজিত থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন ।