রোহিঙ্গা পরিবারের স্বদেশে ‘ফেরত যাওয়া’র প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ১৫ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ০২:৩৪ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি::

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ড থেকে পাঁচ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবারের স্বদেশে ‘ফেরত যাওয়া’র প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ‘বাংলাদেশ থেকে’ পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও ঢাকার তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য মেলেনি। সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তাও বলেছেন, একটি পরিবারের পাঁচজনকে ফেরত নেওয়ার কথা তিনি নো ম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসরতদের মুখে শুনেছেন।
শনিবার (১৪ এপ্রিল) মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ওই পাঁচজনকে ফেরত নেওয়ার দাবি করার পর রোববার (১৫ এপ্রিল) বাংলানিউজ খবর নিলে এ নিয়ে বাংলাদেশের কারও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য মেলেনি। তাই কী প্রক্রিয়ায় ওই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্নের জবাব মিলছে না।

মিয়ানমারের বিবৃতিতে বলা হয়, পাঁচ সদস্যের এক মুসলিম পরিবার (শনিবার) সকালে রাখাইনের তানজিপিওলেটওয়া অভ্যর্থনা কেন্দ্রে এসেছেন। অভিবাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের চাল, মশারি, কম্বল ও পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে। প্রত্যাবাসনের জন্য যাচাই-বাছাই শেষে ওই পরিবারকে মিয়ানমারে প্রবেশের আগেই ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছ‌ড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডের রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বাংলানিউজকে বলেন, শনিবার তুমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্ট দিয়ে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে যান ওই পাঁচজন। এদের মধ্যে ছিলেন তিন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু।

তিনি জানান, মিয়ানমার সীমান্তে পা রাখার পর দেশটির কর্মকর্তারা পরিবারটির সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে নিয়ে যান।

আরিফ নামে আরেক রোহিঙ্গা নেতা জানান, আখতার কামাল নামে এক রোহিঙ্গা নেতা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘গোপনে’ স্বদেশে গেছেন। তিনি মংডু জেলার বলিবাজার এলাকার চেয়ারম্যান ছিলেন।

অবশ্য তার দুই ছেলে এখনো নো ম্যান্স ল্যান্ডে রয়েছেন বলেও দাবি করেন আরিফ।

>৩৪ বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক মেজর ইকবাল আহমেদজানান, বিষয়টি তিনি নো ম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মুখে শুনেছেন।পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নো ম্যান্স ল্যান্ড থেকে এভাবে কোনো পরিবারকে নিয়ে যাওয়া প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না। তাছাড়া তমব্রু সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছেন। মাত্র একটি পরিবারকে নিয়ে মিয়ানমার প্রক্রিয়াটির ব্যাপারে তাদের আন্তরিকতার অভাবই স্পষ্ট করলো।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি মুসলমান’ আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়ন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাদের বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় নেপিদো। সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পথে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে।

বিভিন্ন সংস্থার জরিপ মতে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দুই বছরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত জানুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে দু’টি অভ্যর্থনা কেন্দ্র স্থাপন করে। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাখাইন এখনও প্রস্তুত নয়।

সম্প্রতি সেখানে সফর করে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল। সফর শেষে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল উরসুলা মুয়েলার জানান, সেখানে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা আর অব্যাহত স্থানচুত্যির ঘটনা ঘটছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য এই পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।