স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে চবি শিক্ষক সমিতি

প্রকাশ:| বুধবার, ২৫ জুন , ২০১৪ সময় ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে চবি শিক্ষক সমিতিপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

বুধবার বিকালে নগরীর প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতি নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক ‍সমিতি নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও এর শিক্ষকরা নামেমাত্র বেতনে চাকরি করছেন। শিক্ষায় সর্বোচ্চ মেধার পরিচয় দিয়েও বেতন ভাতার ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় আগ্রহ হারাচ্ছেন, তেমনি অন্যদিকে মেধা পাচার হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘শিক্ষার গুনগত মান ধরে রাখতে মেধাবীদের আকর্ষণের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা সবসময়ই বঞ্চিত। ভারতে যেখানে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেতন পান সেখানে বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১১ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা। মালেশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা করে বেতন পান। একইভাবে শ্রীলঙ্করা মতো দেশেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘নামেমাত্র বেতন-ভাতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জীবনযাত্রা দিন দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। স্বল বেতনের কারণে বিকল্প আয়ের মাধ্যমে তাদের পারিবারিক ও সামাজিক চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ও ঘরভাড়া ছাড়া অন্যান্য ভাতা দেওয়া হয় না দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘সরকারী চাকরি ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঘর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, ইউটিলিটি খরচ, বিনোদন ভাতা, গাড়ির জ্বালানি খরচ, টেলিফোন ভাতাসহ বিভিন্ন ধরণের ভাতা দেওয়া হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও এসব ভাতা দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী। লিখিত বক্তব্যের উপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মঈনুল ইসলাম, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী, কলা অনুষদ ডিন অধ্যাপক ড. ইমরান হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি বেনু কুমার দে, সহ-সভাপতি ড. মো. রাশেদ উন নবী, ড. দেব প্রসাদ পাল, ড. সুকান্ত ভট্টচার্য, ড. মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।

ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রণয়নের যৌক্তিক দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা কোন আন্দোলনে যেতে চায় না, তারা মনে করে সরকার তাদের দাবি মেনে নেবে। যদি মেনে না নেয় তবে মনে রাখা উচিত সামরিক সরকারের আমলেও শিক্ষকরা সর্বাত্মক ধর্মঘট ডেকে তাদের দাবি আদায় করেছেন। পে-স্কেলের দাবির ক্ষেত্রেও কোন ছাড় দেওয়া হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে উদ্দেশ্য করে ড. ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভাজা মাছ খাবেন তেল দিবেন না, তা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সমাজকে শুধু দিয়ে যাবে, তাদেরকে কিছু দিবেন না এ মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে।‘

সংবাদ সম্মেলনের আগে একই দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা।