স্বজন হারানো দুই অসহায় পরিবারের পাশে এসপি

প্রকাশ:| রবিবার, ১৯ জুন , ২০১৬ সময় ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

সন্দ্বীপ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত হয়েছিলেন সানাউল্লাহ (৪৫) ও ইব্রাহিম (৩৫) নামে দুজন।  উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দুই পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।  নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা দুই পরিবারের ! স্বজন হারানোর বিচার পাওয়া অনেক দূরের ব্যাপার, দুই পরিবারে ভাতই যেখানে জোটেনা সেখানে মামলার খরচ বহন করবে কিভাবে ?

দুই পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার খবর পৌঁছে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম হাফিজ আক্তারের কাছে।  দুই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এসপি।

রোববার (১৯ জুন) সানাউল্লাহ ও ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যদের নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ ‍টাকা তুলে দেন পুলিশ সুপার।

সানাউল্লাহর স্ত্রী জেসমিন আক্তার এবং ইব্রাহিমের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ‍পুলিশ সুপারের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান নেন।

শুধু আর্থিক অনুদান নয়, ইব্রাহিমের দশম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েকে পুলিশ বিভাগে চাকরি পেতে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার।  দুই পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখার জন্য সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।

এসময় দুই পরিবারের শিশু সন্তানদের বুকে টেনে নেন পুলিশ সুপার।  একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার সহানুভূতি পেয়ে আবেগাক্রান্ত হন দুই পরিবারের সদস্যরা।  স্বামীর স্মৃতি স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইব্রাহিম ও সানাউল্লাহর স্ত্রী।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় সন্দ্বীপ থানার ওসি আমাকে জানিয়েছেন দুই পরিবার একেবারে নি:স্ব।  মামলা চালানোর সামর্থ্য তাদের নেই।  মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি দুই পরিবারকে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

স্বজন হারানো দুই অসহায় পরিবারের পাশে এসপি2৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সন্দ্বীপের চর বাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সহিংসতায় প্রাণ হারান সানাউল্লাহ ও ইব্রাহিম।  এ ঘটনায় সন্দ্বীপ থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।