স্ট্রোকের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা

প্রকাশ:| শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:২৫ অপরাহ্ণ

স্ট্রোক
স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ হলেও অপরিচিত কিছু নয়। হঠাৎ কোনো কারণে ব্রেন বা ব্রেনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে গেলে স্ট্রোক হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। স্ট্রোক দু’ধরনের হয়। ব্রেনের কোনো রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে যে স্ট্রোক হয়, সেটাকে হেমোরেজিক স্ট্রোক এবং কোনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে সেটাকে ইসকেমিক স্ট্রোক বলে। অধিকাংশ লোকের ধারণা, স্ট্রোকের কোনো চিকিৎসা নেই, শুধু ব্যায়াম করলেই যা কিছু উন্নতি হয়। কিন্তু সেটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

ইসকেমিক স্ট্রোকের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা তিনভাবে করা যায় ১. শিরাপথে এলটেপটেইজ বা আরটিপিএর মাধ্যমে ২. ধমনীপথে ওষুধ ইউরোকাইনেজ ব্যবহারের সাহায্যে ৩. ধমনীপথে থ্রম্বেকটমির মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথম শিরাপথে এনটেপবেইবোর সাহায্য স্ট্রোক চিকিৎসা অনুমোদন করে। স্ট্রোক হওয়ার সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে আসলে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া যায়। ফলে রোগী সারাজীবন হাত-পা অথবা শরীরের অন্যান্য অংশের অবশ হওয়ার অবস্থা থেকে রক্ষা পায়।
যাদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে
১. বয়স যদি আঠার অথবা এর বেশি হয়, ২. শারীরিক তথা স্নায়বিক অবস্থা (এনআইএইচএস স্কোর) যদি ৭ থেকে ২১-এর মাঝে থাকে, ৩. ব্লাড প্রেসার যদি ১৮৫/১১০-এর নিচে থাকে।
যাদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না
১. অজ্ঞান রোগী/ইনকিউবেটরে আছে, ২. রোগীর দুর্বলতা উন্নতি হতে থাকলে, ৩. যদি স্ট্রোক-পরবর্তী সময়ে রোগীর খিচুনি হয়, ৪. যদি সিটি স্ক্যানে সাব অ্যারাকনয়েড হেমোরেজ থাকে, ৫. শারীরিক কোনো অংশ থেকে রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকে (যেমন পায়খানা অথবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত), ৬. যদি তিন মাসের মধ্যে মাথায় কোনো আঘাতের ইতিহাস থাকে, ৭. যদি তিন মাসের মধ্যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকে, ৮. যদি হার্ট আটাকের কোনো লক্ষণ থাকে।
ওষুধের মাত্রা : ১০ শতাংশ তাৎক্ষণিক শিরাপথে দিতে হবে, বাকি অংশ ৬০ মিনিটের মধ্যে শিরাপথে দিতে হবে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : ৬ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ডো : সুভাষ কান্তি দে
সহকারী অধ্যাপক, নিউরোলজি বিভাগ, বিএসএমএমইউ