স্কুলছাত্রকে অপহরণের ১৩ দিন পর নগরী থেকে উদ্ধার,জড়িত দুজন গ্রেপ্তার

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:৫৫ অপরাহ্ণ

পটিয়া উপজেলায় হৃদয় চৌধুরী (১০) নামের এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের ১৩ দিন পর নগরী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে অপহরণের সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।স্কুলছাত্রকে অপহরণের ১৩ দিন পর নগরী থেকে উদ্ধার

পুলিশ জানায়, অপহরণের ১৩ দিন পর সোমবার সকালে নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ী থেকে হৃদয়কে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি গোপন রেখে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সোমবার রাত ১১টায় নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ী থেকে দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের রণজিত দের ছেলে কার্তিক দে (২৯) ও পশ্চিম পটিয়ার কলেজ বাজার এলাকার মো. আবদুল আজিজের ছেলে নিজাম উদ্দীন (২৬)। অপহৃত স্কুলছাত্র উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের সন্তোষ চৌধুরীর ছেলে। সে স্থানীয় অকিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

পুলিশ আরও জানায়, স্থানীয় কার্তিক দে স্কুলছাত্র হৃদয় চৌধুরীকে ৪ টাকা দিয়ে কেলিশহর মিশনের দোকান থেকে কৌশলে মুড়ি আনতে পাঠায়। মুড়ি নিয়ে আসার পথে একটি বাড়ির পাশে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একটি লাল রংয়ের মোটর সাইকেলে দুইজন বসে থাকে। তখন স্কুলছাত্র হৃদয়কে মোটর সাইকেলে চড়ানোর কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাকে খুঁজাখুজি করে তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা।

ঘটনার প্রায় ২ ঘণ্টা পর ০১৮৫৬১৯৬২৪১ নম্বর থেকে স্থানীয় নিউটন আচার্য্যকে ফোন করে বলে বিশ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিলে অপহৃত হৃদয় চৌধুরীকে ফেরত দেয়া হবে। আবার কিছুক্ষণ পর ফোন করে আট লাখ টাকা দাবি করে। তখন তার পরিবার তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপের কথা জানালে অপহরণকারীরা ৫ মিনিট পর ০১৮৫৫৫০৫৫৯৯ বিকাশ নম্বরে করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এদিকে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মফিজ উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল নিয়ে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও অপহৃত স্কুল ছাত্রটিকে উদ্ধার করতে ফাঁদ তৈরি করে। একপর্যায়ে তাদের দেয়া মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বরের সূত্রধরে সোমবার রাত ১১টায় নগরীর সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকায় অপহরণকারী দলের পরিচালনাধীন একটি কম্পিউটার দোকান থেকে দুই অপহরণকারীসহ অপহৃত স্কুলছাত্র হৃদয় চৌধুরীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় অপহৃতের বাবা সন্তোষ চৌধুরী বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মফিজ উদ্দীন বলেন, ‘জায়গা জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে তৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিশুটিকে কোনো মুক্তিপণ ছাড়াই উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারী দুইকে গ্রেপ্তার করে।’