সোহেল হত্যার ঘটনায় মামলা করবে না পরিবার!

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২১ জুন , ২০১৩ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

সীতাকুন্ড পৌর আ’লীগ নেতা কাজী মোঃ মহিউদ্দিন সোহেল হত্যার ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি নয় তার পরিবার! শুক্রবার পারিবারিক এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান নিহতের বড় বোন কাজী আনোয়ারা বেগম। আইনের প্রতি তাদের ভরসা নেই বলেও জানান তিনি। কারণ, এর আগে সোহেলের আরেক বোন খুন হওয়ার পর ৩৬ বছর অতিবাহিত হলেও খুনীদের কোন শাস্তি হয়নি। ফলে বিচার চাওয়া তো পরের কথা, যারা বেঁচে আছেন তাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন এ পরিবারের সদস্যরা।

নিহত সোহেলের বড় বোন কাজী আনোয়ারা বেগম আরো বলেন, বহু আগে তাদের পুরোনো বাড়িতে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের সাথে কয়েকজনের শত্রুতা ছিলো। সেসময় ডাকাতির অযুহাতে ঘরে প্রবেশ করে কিছু দুস্কৃতি সোহেলের বড় বোন কাজী শাহানাকে খুন করে চলে যায়। সে ঘটনায় মামলা মোকদ্দমার পর দীর্ঘ ৩৬ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু কোন আসামিরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এ ঘটনার পর আগের বাড়ি ছেড়ে এসে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মহাদেবপুর গ্রামের মৌলভীপাড়ায় বাড়ি করেন তারা। বোন হত্যার বিচার না পেলেও এ পর্যন্ত আর তেমন কোন সমস্যায় পড়েননি তারা।

কিন্তু গত বুধবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুস্কৃতিরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে সোহেলকে। কারা, কেন তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করল তা এখনো পরিস্কার নয় পরিবারের সদস্যদের কাছে। এ বিষয়ে একটি মন্তব্য করতে রাজি নন সোহেলের স্ত্রী রওশানারা বেগম ও বিধবা মা। তারা সাংবাদিকদের সামনেও আসতে রাজি হননি।

পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতেই এসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় বোন আনোয়ারা। তিনি বারবার প্রশ্ন করেন, কেন এমন হলো? এমন তো হবার কথা ছিলো না। ছোট ছোট দুটি ছেলে মেয়ে সোহেলের। তারা এখনো বুঝতে পারছে না যে তাদের বাবা আর ফিরবে না। এ শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। কারণ, সোহেলের সঞ্চয় তেমন কিছু নেই।

এ বিষয়ে কখন মামলা করবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আনোয়ারা বেগম বলেন, পারিবারিকভাবে কোন মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মামলা করে কি লাভ হবে! আপনাদের সাগর রুনি হত্যার কি কোন বিচার হয়েছে? এ দেশে কোন খুনটির যথাযথ বিচার হয়েছে বলতে পারেন?

তিনি নিজের পরিবার থেকে উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭৭ সালে ডাকাতির নামে তার (সোহেলের) বড় বোন কাজী শাহানাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ডাকাতরা। সে ঘটনায় মামলা হলেও এখনো আসামিদের কোন শাস্তি হয়নি। বরং আরো একটি (সোহেল) খুন হয়ে গেল। গতকাল (বৃহস্পতিবার) এই খুনের প্রতিবাদে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর করেছে কিছু বিক্ষুব্ধ কর্মী। কিন্তু তাতে কি সোহেলকে আর পাওয়া যাবে।

তিনি অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যার খবর শুনে স্থানীয় এমপি এবিএম আবুল কাসেমসহ বহু নেতৃবৃন্দ এসে দেখা করে ফিরে গেছেন। কেউ তো সোহেলের এই দুটি ফুটফুটে সন্তানের পড়ালেখা বা বেঁচে থাকার দায়িত্ব নেবার আশ্বাস দিতে পারেননি। এসব কারণে আইন বা রাজনীতি কারো প্রতিই তাদের আর ভরষা নেই বলে জানান তিনি। শুধু বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি। তিনি যেন এই বাচ্চা দুটির দায়িত্ব নিয়ে তাদের মানুষ করেন।

এ বিষয়ে সীতাকুন্ড থানার ওসি সামিউল আলম বলেন, সোহেলের পরিবারের কেউ এখনো পর্যন্ত মামলা করতে আসেনি। তারা এলে আমরা মামলা নিয়ে আসামি গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।