সোহরাওয়ার্দী হলে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করবেন

প্রকাশ:| সোমবার, ২৫ আগস্ট , ২০১৪ সময় ০৬:২৯ অপরাহ্ণ

চবি প্রতিনিধি,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটি প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী হলে কোন শিক্ষার্থী থাকতে পারবে না। সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করবেন।
উপচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফের সভাপতিত্বে সোমবার দুপুরে এক জরুরী সভায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মো. সিরাজ উদ দৌলাহ জানান, জরুরী সভায় রোববারের ঘটনা তদন্তে জন্য শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে হলের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে কত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে তা তিনি জানাতে পারেননি।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন,ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মো. মোরশেদুল আলম।
সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের কর্মীদের লক্ষ্য করে শিবির কর্মীদের উষ্কানীমূলক বক্তব্যের জের ধরে রোববার বিকেলে চবিতে ছাত্র শিবির ও
ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ও ব্যাপক গোলাগুলি, ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটে। এসময় উভয় গ্রুপের মধ্যে শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় এবং ২৫টির বেশি ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন কর্মী আহত হয়। রাতে সোহরাওয়ার্দী হলে অভিযান চালিয়ে ১৩টি পেট্টল বোমা ও দুইটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালেয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক ছাত্র মো. সরওয়ার হোসেন জানান, আমার মার্স্টার্সের পরীক্ষা চলছে। আমার বই পত্র সব হলের ভিতর কিন্তু মাঠে খেলতে গিয়ে দুই সংগঠনের উত্তেজনার কারণে আর হলে প্রবেশ করতে পারেননি। গুটিকয়েক রাজনৈতিক কর্মীর জন্য আমরা কেন জিম্মি হব?’ এদিকে,সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। রোববারের ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে, সকালে শিবির সন্দেহে এক সংবাদ কর্মীকে ও দুই শিক্ষার্থী মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের সামনে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজ এবং দৈনিক ভোরের ডাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি পরান মারধরের শিকার হন। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. শহীদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। যেকোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা রয়েছে।


আরোও সংবাদ