সোনালী ব্যাংকে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

প্রকাশ:| বুধবার, ১ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

সোনালী ব্যাংকরায়পুর উপজেলায় সোনালী ব্যাংকের হায়দরগঞ্জ শাখায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। দুলাল হোসেন রাজু নামে এক ব্যবসায়ীর মাত্র ৮ লাখ টাকার সিসি ঋণের আবেদনে রহস্যজনকভাবে ৮০ লাখ টাকা মঞ্জুর দেখানো হয়েছে। এ সুযোগে ওই ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে ব্যাংক থেকে তুলেও নিয়েছেন ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হায়দরগঞ্জ উত্তর বাজারের রড ও টিন ব্যবসায়ী মো. দুলাল হোসেন রাজু তার মেসার্স জাহানারা এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের হায়দরগঞ্জ শাখায় সিসি ঋণ হিসাব পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি হিসাবটি নবায়নের সময় তিনি ৮ লাখ টাকার জন্য আবেদন ও প্রক্রিয়াগত কাজ সম্পন্ন করেন। রহস্যজনক কারণে ওই হিসাবে ৮০ লাখ টাকা মঞ্জুর দেখানো হয়। এরপর ব্যবসায়ী দুলাল সেই হিসাব থেকে ইতোমধ্যে ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা তুলেও নিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে বাজারের ব্যবসায়ী ও ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকটির সাবেক ম্যানেজার মহিউদ্দিন বাহার ও ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন রাজু এ টাকা আত্মসাতের জন্য পরিকল্পিতভাবে ৮ লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে ৮০ লাখ টাকা মঞ্জুর দেখান। ঘটনা জানার পরও বর্তমান ম্যানেজার মো. মোস্তফা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বিষয়টি চেপে যান। তিনি ব্যবসায়ী দুলালের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্প্রতি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে বিষয়টি নজরে পড়লে ঘটনা প্রকাশ পায়। বদলি করে দেয়া হয় ম্যানেজার বাহারকে।

সূত্র জানায়, ম্যানেজার মহিউদ্দিন বাহার কমলনগরের হাজিরহাট শাখায় থাকতেও সেখানে বহু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ঋণ দেখিয়ে নিজে আত্মসাত করেন এবং প্রতারকদেরও লাভবান করেন। সেখানেও এ নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। তিনি এ শাখায় থাকতেও নামে-বেনামে বিভিন্নজনকে ঋণ দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হুমায়ুন কবির হাওলাদার নামে এক সিসি ঋণ গ্রহীতা শাখা ম্যানেজারের সামনেই সাংবাদিকদের জানান, তার সিসি হিসাব থেকে ব্যাংক অতিরিক্ত ৮৭ হাজার টাকা কেটে নেয়। তিনি যদি নিরক্ষর হতেন তবে এ হিসাব না বুঝতে পারায় ক্ষতি গুনতে হতো।

ম্যানেজার মো. মোস্তফা অবশ্য স্বীকার করেন ভুলবশতঃ তার হিসাবটি থেকে অতিরিক্ত সুদ কেটে নেয়া হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যেই তা ফেরৎ দিয়ে সংশোধন করা হবে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী মো. দুলাল হোসেন রাজু বলেন, আমি ৮ লাখ টাকার ঋণের আবেদন করেছি। আমার হিসাবে ৮০ লাখ টাকা থাকায় আমার চেকটি পাশ করা হয়েছে। আমি সেখান থেকে ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেছি।

আবেদনের অতিরিক্ত টাকা নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু আমি নই, আরো অনেকের হিসাবের ক্ষেত্রেও এরকম হচ্ছে। আমরা কোনো হিসাব রাখিনা, ব্যাংকের মাধ্যমেই হিসাব হচ্ছে।

ব্যাংকের ম্যানেজার মো. মোস্তফা বলেন, আমার আগের কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বাহারের সময়ে এ ঋণ করানো হয়েছে। হিসাবের লেজারে ৮০ লাখ টাকা লেখা থাকায় ভুলবশতঃ ৮ লাখ টাকার ঋণ হিসাবের বিপরীতে ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা চলে যায়। অসাবধনতার কারণেই ৮ লাখ টাকার স্থলে ৮০ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর দেখানো হয়েছে। ভুল সংশোধনের চেষ্টা চলছে।