সৈকতে ঝাউগাছ নিধন, পরিবেশ বিপর্যয়

প্রকাশ:| বুধবার, ৮ জুন , ২০১৬ সময় ১১:২৯ অপরাহ্ণ

ঝাউগাছ নিধনসেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে ঝাউগাছ নিধন। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত এই এলাকায় প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটটি ঝাউগাছ কেটে খালি জায়গাটি প্লট আকারে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আর ওই সিন্ডিকেটটিকে ঝাউগাছ নিধন আর প্লট বিক্রিতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর । তিনি নিজেই অসাধু বন কর্মকর্তা ও বন প্রহরিদের ম্যানেজ করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ব্যবহার করে এই কাজ করে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে-সৈকতের এসব এলাকায় শতাধিক ঝাউগাছ কেটে দুই শতাধিক বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছে। এতে করে যেমনি ভাবে সৈকতের সৌন্দর্য্য নষ্ট হচ্ছে ঠিক তেমনি ভাবে মারাত্মক ঝূঁকির মধ্যে পড়ছে উপকূলীয় এলাকা। সর্বশেষ গত ২৭ মে সমিতি পাড়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে উক্ত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটটি ঝাউগাছ কেটে অবৈধভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পরদিন সকালে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে গেলে কাউন্সিলর বাধা দেয়। তবে বাধা অমান্য করে বিট কর্মকর্তা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ওই অবৈধ ঘরটি ভেঙে দেয়। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগেরর রেঞ্জার তাপস কুমার দেব জানান,-ঝাউবাগান নিধনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালিত হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৫৭ টির অধিক বন মামলা হয়েছে। যা বর্তমানে আদালতে বিচারনাধীন রয়েছে। উক্ত ৫৭ মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া আরো অনেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে এখনো রয়ে গেছে তারা বাইরে থেকে নানা ভাবে ঝাউবাগান নিধনের সাথে জড়িত। এদের সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবী এলাকাবাসীর।