সেরা চারে জার্মানি

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৪ জুলাই , ২০১৪ সময় ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

জার্মানিইতিহাসের ‘অভিশাপ’ মুছতে পারলো না ফরাসিরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ‘সেই’ জার্মানির সঙ্গে হেরে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপের বিংশ আসর থেকে। আর ইতিহাস আকড়ে রাখা জার্মানরা পৌঁছে গেছে শেষ চারে। সেমিফাইনালে ৮ ‍জুলাই ব্রাজিল অথবা কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।

সেমিফাইনাল নিশ্চিতে শুক্রবার রিওডি জেনেরিওর মারাকান‍া স্টেডিয়ামে নামে সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও জার্মানি। ম্যাচের ১২ মিনিটেই টনি ক্রসের ফ্রি কিক দুর্দান্ত হেডের মাধ্যমে গোলে পরিণত করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন ম্যাট হামেলস। একমাত্র গোলে জয়ী জার্মানরা বিশ্বকাপের এবারের আসরে প্রথম দল হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো।

খেলার প্রথমার্ধের ১২ মিনিটের গোল ম্যাচের বাকি ৭৮ মিনিটেও পরিশোধ করতে পারেনি ফরাসিরা। বরং ৮২ মিনিটে উল্টো দ্বিতীয় গোল হজম করতে বসে। গোলরক্ষক লরিস দ্বিতীয় গোল ঠেকিয়ে দিলেও রক্ষা করতে পারেননি ফরাসিদের। কোয়ার্টার ফাইনালে ফরাসিদের হারিয়ে ৮২’র পুনরাবৃত্তি ঘটালো র্জামানরা।

এর আগে, প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে স্ট্রাইকার বেনজেমা গোল করতে ব্যর্থ হলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফরাসিরা।

খেলার শুরু থেকে ফরাসিদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ১২ মিনিটেই গোল তুলে নেয় জার্মানি। প্রথম আধঘণ্টা চাপে থাকলেও ৩২ মিনিট থেকে পাল্টা আক্রমণে দেখা যায় ফরাসিদের। পরিশোধের সুযোগ এলেও ব্যর্থ হয় তারা।

খেলার ৪ মিনিটেই আক্রমণে যায় জার্মানি। তবে ফরাসি ডিফেন্সের মুখে তা প্রতিহত হয়। ৮ মিনিটের মাথায় পাল্টা আক্রমণে যাওয়া বেনজেমার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে এগিয়ে যাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় ফ্রান্স। ১১ মিনিটের মাথায় ভ্যালবুয়েনার বানিয়ে দেওয়া বল জার্মান জালে জড়াতে ফের ব্যর্থ হয় ফরাসিরা। তবে পরবর্তী মিনিটে টনি ক্রসের ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত হেডের মাধ্যমে এগিয়ে যায় জার্মানরা।

৩৫ মিনিটে গ্রিজম্যানের বানিয়ে দেওয়া বল ভ্যালবুয়েনা গোলবারে মারলেও জার্মান গোলরক্ষক ন্যুয়ের দৃঢ়তার সঙ্গে তা ফিরিয়ে দেন। সামনে থাকা বেনজেমাও তা গোলে রুপান্তরে ব্যর্থ হন, ফলে প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে পারেনি ফরাসিরা।

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে গ্রিজম্যানকে ফাউল করলে ম্যাচের প্রথম হলুদকার্ড হজম করেন সামি খিদিরা। ৬০ মিনিটে জার্মান ডিবক্সে ভ্যালবুয়েনার পাস ক্লিয়ার করেন শোয়েন্সটেইগার। ৬২ মিনিটে ফের আক্রমণে আসা ফ্রান্সের ভেরানের হেড জার্মান গোলরক্ষক ন্যুয়ের তালুবন্দি করলে এ যাত্রায় বেঁচে ‍যায় জার্মানরা।

৬৯ মিনিটে ক্লোসাকে উঠিয়ে নামানো হয় শুরেলকে। ৮০ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হজম করেন শোয়েন্সটেইগার।

৮২ মিনিটে ফরাসি ডিফেন্সের বাধা পেরোতে পারলেও গোলরক্ষকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন লরিস। ৮৩ মিনিটে ওজিলকে উঠিয়ে নামানো হয় গোৎজকে। ৮৫ মিনিটে ভ্যালবুয়েনার স্থলে নামেন জিরর্ড।

গোল পরিশোধে মরিয়া ফ্রান্স পাল্টা আক্রমণে গিয়েও সাফল্য পায়নি। এছাড়া, খেলার ২৫ মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ভেতরে ক্লোসা ফাউলের শিকার হয়ে গোল বঞ্চিত হন, একইসঙ্গে পেনাল্টিও বঞ্চিত হন তিনি।

প্রথমার্ধে গোল হজম করায় ম্যাচ উপভোগ করতে আসা ফরাসি দর্শকদের চেহারায় হতাশা চোখে পড়ে।

চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপের দুই জায়ান্ট চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও জার্মানি। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১০টায় রিওডি জেনেরিওর মারাকানা স্টেডিয়ামে ‘অঘোষিত এ ফাইনালে’ নামে দু’দল।f