সেন্টমার্টিন ও অন্যান্য দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা সীমিত করার সুপারিশ

প্রকাশ:| শনিবার, ৩ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

সেন্টমার্টিন ও অন্যান্য দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা সীমিত করার সুপারিশ করে জাতীয় সামুদ্রিক মৎস্য নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ও এর নিরাপদ প্রজনন ও পরিযায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তদারকি, ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কথাও বলা হয়েছে।

সামুদ্রিক মৎস্য নীতিমালায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ, ডলফিন, হাঙ্গর, কোমট, তিমি, পরিযায়ী পাখি ইত্যাদি রক্ষায় প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, টেকসই আহরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা, নৌযানে আহরিত মাছে ফরমালিনসহ সব ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের স্থায়ী উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ও অন্যান্য দ্বীপ এবং সংলগ্ন এলাকায় সামুদ্রিক বিভিন্ন মূল্যবান প্রজাতির চারণ ও প্রজনন ক্ষেত্র নিরাপদ রাখার জন্য সামুদ্রিক শৈবাল, প্রবাল প্রাচীর, শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, উপকূলীয় প্যারাবন ইত্যাদি সংরক্ষণ করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যটকের সংখ্যা সীমিত রাখার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া গভীর সমুদ্রে বিচরণশীল মেকারেল, টুনা জাতীয় ও অন্যান্য অনুরূপ পেলাজিক মাছের উপস্থিতি ও প্রাচুর্য সম্পর্কে তথ্য আহরণের জন্য অনুসন্ধান ও এসব প্রজাতির মাছের বাণিজ্যিক আহরণে উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে সম্পদের মজুদ নির্ধারণ ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদানে জোর দিতে বলা হয়েছে।

জাতীয় সামুদ্রিক মৎস্য নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, সমুদ্রের মাছ আহরণে ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ও নির্বাচিত পদ্ধতিতে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত সরঞ্জামাদি ফাঁসজাল, বড়শি, ট্রামেল জাল বা অনুরূপ জালের ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত রাষ্ট্রাধীন অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরে মহীসোপানের সম্প্রসারিত এলাকার ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বাংলাদেশ মৎস্য ও খনিজসহ সব ধরনের সম্পদ আহরণের আইনসঙ্গত অধিকার পেয়েছে।

দক্ষিণে টেকনাফ থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত ৭১০ কি.মি. উপকূলীয় তটরেখা এবং বেজলাইন (১০ ফ্যাদম গভীরতা পর্যন্ত) হতে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল বিস্তৃত সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সর্বমোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জলসীমায় সম্পদ আহরণের অধিকার এবং সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এদেশের সমুদ্রসীমায় জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল সমাহার রয়েছে। যেখানে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির ছোট-বড় নানা আকারের মৎস্য ও ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি, ৫ প্রজাতির লবস্টার, ১৫ প্রজাতিরও অধিক কাঁকড়া, ৫ প্রজাতির কচ্ছপ, ১৩ প্রজাতির প্রবাল, ১৪০ প্রজাতির শৈবালসহ নানাবিধ জলজ সম্পদের সন্নিবেশ ঘটেছে। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন বিভিন্ন প্রজাতির একুয়ারিয়াম মৎস্যসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক চারণক্ষেত্র যেখানে প্রতি বছর দেশ বিদেশের পর্যটকদের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়।