সেচের অভাব: জমির চাষ ব্যহত, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ

প্রকাশ:| সোমবার, ১৫ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১০:০২ অপরাহ্ণ

সেচের অভাব

নন্দন রায়, সীতাকুন্ড সংবাদদাতাঃ সীতাকুন্ডে সেচ কার্যের অভাবে শত শত একর আবাদী জমির চাষ ব্যহত হচ্ছে। উপজেলার কৃষি জমির পরিমান প্রায় দশ হাজার হেক্টর। এ সকল জমিতে প্রতি বছর কৃষকরা আউশ, আমন ধানের চাষসহ বিভিন্ন রবি শস্যের চাষ করে থাকেন। ধানের মূল্য কম পাওয়া যায় তাই এই উপজেলার কৃষকরা আবাদী জমিতে ধানের চাষ কম করে থাকেন। বাজারে সবজির চাহিদা ও মূল্য থাকায় কৃষকরা রবি শস্য চাষে উৎসাহ দেখান বেশী । এখানে কৃষি জমিতে চাষাবাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা সেচ । শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে শত শত একর ক্ষেতের ফসল জ্বলে যায়। আর তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষক। পুকুর ও খালের পানি দিয়ে এ এলাকার কৃষকরা সেচ কার্য চালালেও তবে অনেকাংশ জায়গায় পুকুর কিংবা খাল না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষি কাজ করা সম্ভব হয় না। উপজেলার কৃষি জমি গুলোতে সেচের পানির কোন উৎস নেই। ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হওয়ায় নলকূপের পানিতেও সেচ কার্য করা যায় না। অন্যদিকে খালের পানিতে মিল কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার কারণে এসিড মিশ্রিত পানিগুলি সেচের অযোগ্য হয়ে পরে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে আবাদী কৃষি জমিতে সেচের পানি যোগাড় করতে মহা ঝামেলায় পড়তে হয় কৃষকদেরকে। রবি শস্যের মধ্যে বিশেষ করে মিষ্টি আলু , ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, বেগুন, মূলা, ডাল, শালগম, কাঁচা মরিচ, ওলকপি, মিষ্টি কুমড়া , গাজর, প্রভৃতি শীতকালীন সবজির চাষ করে থাকেন সীতাকুন্ড উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বড় দারোগারহাট , শেখের হাট, পন্থিছিলা,ছোট দারোগার হাট, কলা বাড়িয়া, শেখপাড়া, শেখের হাট, ভাটির খিল , ইদিলপুর, কেশবপুর, আমিরাবাদ, মুরাদপুর, ফকিরহাট, মান্দারিটোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন সবজি চাষে পানি সেচের অভাব দেখা দেয়। আর এ এলাকার কৃষকদের শত শত একর কৃষি জমির ফসল সেচের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে জমিতে অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করা চাষীদের হুমকীর মুখে পড়তে হয়। অর্থ ও শ্রম নষ্ট হওয়া চাষীরা অনেক সময় কৃষি কাজ বন্ধ করে বেকার হয়ে পড়ে। ভূক্তভোগী চাষীদের এনজিওদের ঋণের সুদ দিতে হিমসিম খেতে হয়। সীতাকুন্ড উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহআলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন উপজেলায় ফসলি জমিতে সেচের পানির কোন উৎস বা ব্যবস্থা নেই । তার কারণ হলো এখানে ভূগর্ভের পানি ব্যবহার করা যায় না। এখানকার জমিগুলিতে সেচ কাজে দূরদূরান্তের কয়েকটি পুকুর কিংবা খালের পানির উপর নির্ভর করতে হয়। তবে উপজেলার কৃষি কাজের প্রধান সমস্যা সেচের পানির উৎস ভূগর্ভের পানিকে করা যায় কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) । তাতে যদি সফলতা পাওয়া যায় কৃষকদের সেচের পানির আর কোন সমস্যা হবে না। ভূগর্ভের পানিকেই সেচের আওতায়া নিয়ে আসা যাবে বলে তারা মনে করছেন।