সেই কিশোরীর নাম তাসফিয়া

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ২ মে , ২০১৮ সময় ০৯:১৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরের নেভাল একাডেমির কাছে কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে লাশ উদ্ধার করা লাশটি সানসাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী তাসফিয়ার(১৬)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার সকালে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যায় সানসাইন গ্রামার স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র আদনান মির্জাকে নগরের পাঁচলাইশ এলাকার বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই কিশোরের সঙ্গে ছিল ওই কিশোরী। তারা একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে, যার ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ।

ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার বিকেলে ছাত্রীর লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এক ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তাসফিয়া সবার বড়। সে নগরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্রী ছিল।

পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, তাসফিয়ার বাবা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী। তিনি আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। তাঁর বড় মেয়ে ছাড়াও একমাত্র ছেলেও একই স্কুলে পড়াশোনা করে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, পতেঙ্গা নেভাল একাডেমির সামনে কর্ণফুলী নদীর তীরে পাথরের ওপর কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নগরের কর্ণফুলী অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাসফিয়ার মুখ ও হাঁটু থেঁতলানো। পাথরে পড়ে গিয়ে থেঁতলে গিয়েছে নাকি পাথর দিয়ে কেউ থেঁতলে দিয়েছে, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চলছে।

কিশোরীর বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী বলেন, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় মেয়ের বাবা মসজিদে নামাজ পড়তে যান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে মেয়ের ছোট ভাই ও চাচাতো ভাই বাইরে যায়। ভাই বের হওয়ার দুই-আড়াই মিনিট পর মেয়েটিও বাসা থেকে বের হয়েছিল। এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ওই কিশোরী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তার মা বিশ্রামে ছিলেন। তাসফিয়ার হাতে মোবাইল থাকলেও সিম ছিল না। স্কুলে যাতায়াত ছাড়া তার মোবাইলে সিম দেওয়া হতো না। তবে বাসায় ওয়াইফাই সংযোগ আছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করত।

তাসফিয়ার চাচা বলেন, ভাতিজির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সবাই শোকাহত। কোনো ছেলের সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকতে পারে, সেই ধারণা কারও নেই।

নগরের বন্দর অঞ্চলের পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আরেফিন জুয়েল বলেন, আটক আদনান মির্জা নগরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাওয়া-দাওয়া সেরে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় তাসফিয়াকে নাকি তুলে দেয় সেই আদনান মির্জা। তারপর কী ঘটেছে, তা জানতে কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।