সুষ্ঠু ভয়ভীতিহীন নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করুন

প্রকাশ:| রবিবার, ২৬ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ১০:২৪ অপরাহ্ণ

পুলিশ কমিশনারের সাথে বৈঠকে উন্নয়ন আন্দোলন নেতৃবৃন্দ

সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের পরিবর্তে নির্বাচনী প্রচারনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত মনজুর আলমের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানীর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িত ও বহিরাগতদের গ্রেফতার, নিরীহ লোকজনকে হয়রানী বন্ধ করার দাবী জানিয়েছেন।
রবিবার সকালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলের সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত করে এ দাবী জানান।

আহবায়ক প্রফেসর ড. আবুল কালাম আযাদের নেতৃত্বে উক্ত প্রতিনিধিদলে উন্নয়ন আন্দোলন নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুগ্ন আহবায়কবৃন্দ যথাক্রমে এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, প্রকৌশলী কে এম সুফিয়ান, সদস্য সচিব এডভোকেট এস ইউ এম নুরুল ইসলাম, সদস্য অ্যাডভোকেট আহমদুর রহমান খান, নুরুল আমিন এমএসসি এবং এডভোকেট শাহদাত হোছাইন চৌধুরী।

নেতৃবৃন্দ সিএমপি কমিশনারকে দেয়া লিখিত অভিযোগে বলেন, সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষের নেতা-কর্মীরা মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের পক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর ক্রমাগত হামলা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুরসহ নির্বাচনী আচরন বিধি লংঘন করে চললেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না। অধিকন্তÍ পুলিশ মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের পক্ষের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, বাসা-বাড়ীতে তল্লাশী, ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন হয়রানী মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে।

বৈঠকে উন্নয়ন আন্দোলন নেতৃবৃন্দ বলেন, শুক্রবার রাত থেকে পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী ও মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের পক্ষের সম্ভাব্য পোলিং এজেন্ট, নির্বাচন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের বিনা কারনে গ্রেফতার, বাসা-বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে আত্মীয়-পরিজনদের হুমকী, এলাকায় এলাকায় মনজুর আলমের পক্ষের সমর্থক, ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আতংক সৃস্টি করছে।

উন্নয়ন আন্দোলন নেতৃবৃন্দ বলেন, গতরাতে ছাত্রদল চট্টগ্রাম নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম রাশেদ খান, হালিশহর বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ সেলিম, চকবাজার থানা যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশা, দেওয়ানবাজার বিএনপি নেতা আসুসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক নেতা জহিরুল ইসলাম লিটন, মো. আলমগীর, রুহুল আমিন , কাজী আনসারুল হককে গ্রেফতার করে। কদমতলীতে বিএনপি নেতা মিনুর বাসায় তালা ভেঙ্গে ঢুকে মালামাল তছনছ করে। বাকলিয়া, বন্দর, পতেঙ্গা, কোতোয়ালীসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল নেতাদের বাসা-বাড়ীতে তল্লাশীর নামে হয়রানী, আতংক সৃস্টি করে মেয়র প্রার্থী মনজুর পক্ষে কাজ না করতে হুমকী-ধামকি দিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় মনজুর আলমের পোলিং এজেন্টদের খোঁজ-খবর নেওয়ার নামে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন থেকে বিরত না হলে গ্রেফতারের হুমকী দিচ্ছে।
বৈঠকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের আহবায়ক প্রফেসর কালাম পুলিশ কমিশনারকে আরো অবহিত করেন যে, খুলশী-বায়েজিদ এলাকায় সন্ত্রাসীরা সশস্ত্রভাবে বহাল তবিয়তে অবস্থান করে প্রতিপক্ষের উপর হামলা, গাড়ী ভাংচুর , প্রচারনায় বাধাদানসহ সুষ্ঠু নির্বাচন পরিপন্থী বেআইনী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না।
নেতৃবৃন্দ বলেন বিগত কয়েকদিন থেকে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট কারচুপি ও জালিয়াতিতে সহযোগিতা করার জন্য নগরীর বাইরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক বহিরাগতকে শহরে এনে হোটেল, রেস্ট হাউজে জড়ো করা হচ্ছে। এব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে বহিরাগতদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনসহ অবিলম্বে পুলিশের হয়রানী ও পক্ষপাতমূলক আচরন বন্ধ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃস্টির দাবী জানান।