সুরের ইন্দ্রজালে ভাসালো লালন …

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ , ২০১৬ সময় ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ

নিউজচিটাগাং২৪.কম::সুরের ইন্দ্রজালে ভাসলো লালন
সুরের ইন্দ্রজালে ভাসালো লালন… উৎসব মুখোর পরিবেশে মোট্রোপলিটন কমার্স কলেজের প্রথম পুর্নমিলনী পরিনত হল আনন্দের জোয়ারে। লালনের মায়াময় সুরের কম্পন শ্রোতাদের মন্ত্রমুদ্ধ করে ফেলো। সুরের ইন্দ্রজালে তারুন্যের আবেগ অনুভুতি ছিল মাতোয়ারা। উল্লেখ্য আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিলো চট্টগ্রামের প্রথম ২৪ ঘণ্টার অনলাইন পত্রিকা নিউজচিটাগং২৪.কম।

লালন1

এন মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার এসো বন্ধু প্রাণের মেলায় মিলন মেলায় শিরোনামে চট্টগ্রাম মোট্রোপলিটন কমার্স কলেজের প্রথম পুর্নমিলনী উৎসবের সংস্কৃতিক পর্বের মূল আকর্ষণ ছিল লালন। অনুষ্ঠানে নিজেদের মতমাতানো পরিবেশনা দিয়ে অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। তখন উচ্ছলতায় ভরপুর আনন্দনগরী। হলের সামনে হাজার হাজার ভক্ত। উন্মাদনায় মাতাল তারুণ্য।

অবিনশ্বর অনুভূতির প্রতিরূপ সংগীত। গান শুনলে ভালো হয়ে যায় বিক্ষিপ্ত মন। জুড়িয়ে যায় প্রাণ। আত্মা হয় পরিশুদ্ধ। আর তা যদি হয় শিকড়সন্ধানী লোকসংগীত, তবে উপলব্ধির মাত্রাটা সহজেই স্পর্শ করে হৃদয়ের গহিনে। মরমী সাধকদের মানবতা আর আধ্যাত্মবাদী দর্শনের বাণীসমৃদ্ধ শব্দতরঙ্গে আলোড়িত হয় শ্রোতার প্রাণ।
লালন

‘সাঁইজির গান তো শুধু গান নয় এ যেন অন্য কিছু… লালন ব্যান্ডের সুমির কন্ঠে  …

সময় গেলে সাধন হবে না
দিন থাকতে দিনের সাধন
কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না।

জানোনা মন খালে বিলে
থাকে না মীন জল শুকালে
কি হবে আর বাধাল দিলে
মোহনা শুকনা
বিলের মোহনা শুকনা।

অসময়ে কৃষি করে
মিছামিছি খেটে মরে
গাছ যদিও হয় বীজের জোরে
ফল ধরে না,
তাতে ফল ধরে না।।

অমাবশ্যা আর পূর্ণিমায়
মহাযজ্ঞে দিনে উদয়
লালন বলে তাহার সময়
দন্ড রয় না …

এর মতো অসংখ্য গান…. সাথে সুরের ধারায় উত্তাল পুরো উৎসব স্থল।

বাউল গান নিয়ে নানা ধরনের নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আধুনিক শহুরে প্রজন্মের একটি অংশ। সেই প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করে ব্যান্ড দল ‘লালন’।

লালন দলের পক্ষে সুমী বাংলাদেশে সম্প্রীতির কথা বললেন। সুমী বাংলাদেশকে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় দেশই বললেন না, বললেন বাংলাদেশ শান্তির দেশও। বর্ণপ্রথার বিরূদ্ধে সাঁঈজি লালন দেড়শ বছর পূর্বেই গান গেয়েছিলেন। তারপরের পরিবেশনা ছিল ‘জাত গলে জাত গেল’। শহুরে মানুষের কাছে সঙ্গীতের মাধ্যমে লালনকে পৌঁছে দিতে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ব্যান্ড দল ‘লালন’। দল গড়ার পর থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম ব্যান্ড দলে স্থান করে নেয় তারুণ্য নির্ভর ফোক ফিউশন এই দলটি। দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সুমীকে ‘লালন’ বিষয়ে আগ্রহী করে তুলেন অসীম দেবনাথ। এরপর থেকেই লালন সঙ্গীতে চর্চা শুরু করেন সুমী।