সুরমা নদীতে ভাঙ্গন, হুমকীর মূখে জনপদ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

সিলেট অফিস : সিলেটের সুরমা নদী থেকে বন্ধ হচ্ছেনা অবৈধ বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন, এমন ভুয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে কর্মকর্তা কর্মচারীরা মাটি খাদকদের কাছ থেকে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আর খাদকরা সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ঘটিয়ে চলেছে মারাত্মক প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়।
ফলে সুরমাতীরের জনপদগুলো এখন অনিরাপদ আবাসনে পরিনত হয়ে পড়েছে।

হুমকির মূখে সুরমা তীরবর্তী সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন স্থাপনা, হাট-বাজর, স্কুল-মাদ্রাসা মসজিদসহ বহু প্রতিষ্টান। নদী ভাঙ্গনে বাস্তুহারা হচ্ছে শত শত পরিবার। বিলীন হতে চলেছে কৃষি ও ক্ষেতের জমি।

সুরমার ইজারাবিহীন এলাকা থেকে বালু-মাটি উত্তোলন বন্ধে গত ২৮ডিসেম্বর বুধবার পর্যন্ত এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ১০টির মত আবেদন জমা পড়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। কিন্তু কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ বালু মাটি উত্তোলনের মহোৎসব।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রতিবারই ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলেও কার্যত নির্দেশ পালন করছেন না অধঃস্তনরা।

জানা গেছে, সুরমা নদীতে রয়েছে জেলা প্রশাসনের কয়েকটি ইজারাযোগ্য বালু মহাল । যা প্রতিবছরই শর্তসাপেক্ষে ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করা হয়ে থাকে। ইজারাযোগ্য এ মহালগুলোর ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে ইজারা অযোগ্য বিস্তীর্ন এলাকা।
আর এ সুযোগে মাটি খাদকরা অবাধে লুট করে নিচ্ছে নদীর বালু মাটি। অঘোষিত খাস কালেকশনের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা ভুমি ও মাটি খাদকদের দিয়ে অবাধে বালু-মাটি উঠিয়ে বিপর্যয় ঘটাচ্ছেন পরিবেশ ও প্রতিবেশের।
বিশেষ করে শুষ্ক মওসুমে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সুরমাতীরে নদীভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। ফলে অনেকক্ষেত্রে ভেস্তে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবোর বিভিন্ন বাধ ও প্রকল্প।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার নলু ও তোড়ভাগ এলাকায় প্রতিদিন কুড়িটিরও বেশী লোড-আনলোড হাইড্রলিক ড্রেজার দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু ও মাটি। এর আগে খাদকরা সিলেট সদর উপজেলার ইজারাকৃত ‘দলইকান্দি ও হাজিরাই’ বালুমহালের মধ্যবর্তী বিস্তীর্ন এলাকার বালুমাটি তুলে লাখ লাখ টাকা কামাই করেছে।

বর্তমানে খাদকরা গোলাপগঞ্জের ‘নলু-তোড়বাগ’ এলাকায় হানা দিলে এলাকার জনমনে ভাঙ্গন আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ৩১ ডিসেম্বর বুধবার সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক অধৎস্তনদেরকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও স্থানীয় ভূমি সংশ্লিষ্টরা ম্যানেজ হয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না ।

মাটি খাদকরা প্রতিদিন ২০টি হাইড্রলিক ড্রেজার দিয়ে ৮ থেকে ১০ লাখ ঘনফুট বালু মাটি উত্তোলন করে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা কামাই করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বালু উত্তোলনে জড়িতরা এলাকাবাসীকে খাস কালেকশনের কথা জানালেও প্রকৃতপক্ষে সুরমা নদীতে সরকারী ভাবে কোন খাস কালেকশন নেই বলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবৈধ বালু উত্তেলানের একাধিক অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, প্রতিবারই অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে ১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রশাসনের একটি অভিযানিক দল গোলাপগঞ্জের নলু-তোড়ভাগ এলাকায় রওয়ানা দিয়েছে। তবে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযানের ফলাফল জানা যায়নি।