সুপ্রীমর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মারিশ্যা বিজিবি

প্রকাশ:| বুধবার, ২০ মে , ২০১৫ সময় ০৮:৪৬ অপরাহ্ণ

রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ বাঘাইছড়িতে সেনা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সুপ্রীম চাকমার বিজিবিবিজিবিপরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মারিশ্যা ৩৯ বিজিবি। সুপ্রীম চাকমার একমাত্র সন্তান উজান চাকমার বিনা মূল্যে পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছে ৩৯ বিজিবি। উজান চাকমা বিজিবি পরিচালিত বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড কেজি স্কুলে নার্সারীতে অধ্যয়নরত। এদিকে সুপ্রীম চাকমা নিহতের পর লে: কর্ণেল রবিউল ইসলাম পিএসসি (সিগনাল) বাঘাাইছড়ির বটতলীস্থ পশ্চিম নাইল্যাঘোনায় সুপ্রীম চাকমার বাড়িতে যান। তিনি তার পিতা ও স্ত্রীর সাথে কথা বলেন এবং পরবিারের বর্তমান অবস্থার খোঁজ খবর নেন। এ সময় সুপ্রীম চাকমার একমাত্র সন্তান উজান চাকমার বিনামূল্যে পড়ালেখার ব্যবস্থার জন্য স্কুলের কর্ম পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও ভাইস প্রিন্সিপাল রুশা চাকমাকে নির্দেশ দেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন, হিল নিউজে টায়েন্টিফোর ডটকমের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ গিয়াস উদ্দিন। জোন কমান্ডার সুপ্রীম চাকমার স্ত্রীকে সেনা বাহিনীর উর্ধ্বতন পর্যায়ে কথা বলে চাকরির ব্যবস্থা করার অশ্বাস দেন এবং বাঘাইহাট সেনা জোন থেকে সহযোগিতা দেয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। সুপ্রীম চাকমার অসহায় পরিবারের সদস্যরা জোন কমান্ডারকে পাশে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সুপ্রীম চাকমার স্ত্রী। তিনি জোন কমান্ডারকে তার স্বামীর ছবি বের করে দেখান এবং সংসার জীবনের অতীত স্মৃতি স্মরন করিয়ে দেন। এ সময় তিনি তার ভবিষ্যত জীবনের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জোন কমান্ডারের কাছে। শোকাহত জোন কমান্ডার অসহার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। জোন কমান্ডারের কাছে সুপ্রীম চাকমার পিতা দয়াল চাকমা, তার সন্তানের বাল্যকাল ও স্কুল জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন। এ সময় এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে জোন কমান্ডার বক্তব্য রাখেন। তিনি সুপ্রীম চাকমার করুন পরিনতি উল্লেখ করে উপস্থি নারী পুরুষ ও যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অস্ত্র ও সন্ত্রাস কারো জীবনে মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। এই পথ একজন মানুষকে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। তিনি সুপ্রীম চাকমার মতো বিপদগামী না হয়ে সমাজের উন্নয়নে এবং এলাকাবাসীর কল্যাণে কাজ করতে যুব সমাজের প্রতি আহবান জানান।
পরে জোন কমান্ডার নিহত সুপ্রীম চাকমার স্ত্রীর হাতে নগদ টাকা, চাল-ডালসহ খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। উল্লেখ্য গত ২৩ এপ্রিল সাজেকের একুজ্জাছড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহলে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় সুপ্রীম ও তার সশস্ত্র সহযোগিরা। এসময় সেনাবাহিনীও তাৎক্ষনিকভাবে পাল্টা গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে অন্তত ঘন্টাব্যাপী গুলি বিনিময়ের ঘচনা ঘটে। পরে সেনবাহিনী প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সুপ্রীম চাকমা।