সুপ্রভাত বাংলাদেশ’ প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে কিশোর উৎসব

প্রকাশ:| বুধবার, ৯ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

সুপ্রভাত বাংলাদেশ’ প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে কিশোর উৎসবমঙ্গলবার;ঘড়ির কাঁটা তখন বিকেল পাঁচটা ছুঁই ছুঁই। মঞ্চে স্কুলের পোশাকে ত্রিশ জনের মতো ছোট্ট শিশু। সবাইকে থমকে গিয়ে তারা গেয়ে উঠলো জাতীয় সঙ্গীত,‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।’ সাথে সাথে পুরো মিলনায়তন জুড়ে সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হলো সেই সুর।

চট্টগ্রামের জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘সুপ্রভাত বাংলাদেশ’ প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে এই উৎসবের। আর এতে নগরীর ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

‘জানো এবং জানাও জগৎটাকে’ শীর্ষক শিরোনামে মঙ্গলবার শুরু হওয়া এ তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রথম এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহিম।

রাশিয়ান একটি প্রবাদের কথা উল্লেখ করে এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহীম বলেন, ‘কোন কাজে আগে বৃষ্টি কিংবা রংধনু দেখা দিলে সেকাজটিকে রাশিয়ানরা শুভ লক্ষণ হিসেবে মনে করে। এখানেও অনুষ্ঠানের আগে বৃষ্টি হয়েছে, মানে এটা শুভ লক্ষণ। আর সেটা বুঝতেও পারছি উপস্থিত নবীন ও সবুজ প্রাণ দেখে।’

অনুষ্ঠানে সুপ্রভাত বাংলাদেশ’র উপদেষ্টা সম্পাদক কবি আবুল মোমেন বলেন, ‘বাঙালিদের নিয়ে অনেক প্রবাদ রয়েছে, তাদের নাকি সাহস কম! তাই বাঙালিকে ভীতু, ভেতো বাঙালি বলে ডাকা হয়। কিন্তু সেই বাঙালিই ভয়কে জয় করে এভারেস্টের মতো পর্বতশৃঙ্গকে জয় করতে পারে। তার প্রমাণ মুসা ইব্রাহীম।’

তিনি বলেন,‘আমরা গতানুগতিক চিন্তার বাইরে কিছু করতে পারি না। সাফল্য বিষয়টি আগে বেশ গৎবাঁধা ছিল। চাকরি থাকা মানেই সে সফল। কিন্তু এখন সেই চিন্তার পরিবর্তন এসেছে। মুসাকে দেখেই সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারছো তোমরা।’

কনফিডেন্স সিমেন্টের নির্বাহী পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন,‘এরকম একটি আয়োজন আসলে অভিভূত করার মতো। শিশু-কিশোরদের নিয়ে এমন আয়োজন কম হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠার পেছনে অভিভাবকদের ভূমিকা অনেক। কিন্তু অভিভাবদের সেই গৎবাঁধা ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অতিমাত্রায় একাডেমিক শিক্ষাব্যবস্থায় আসক্ত না হয়ে জীবনমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে শিশুদের।’

দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের ইভেন্ট ম্যানেজার মাসুদ বকুলের পরিচালনায় উৎসবে শিশু-কিশোরদের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিকটির সম্পাদক রুশো মাহমুদ।

আলোচনা শেষে শুরু হয় বিতর্ক, কুইজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক এবং দামপাড়ার এলিমেন্টারি স্কুলে বির্তক ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার উৎসবের প্রথম দিন ছিল কলেজভিত্তিক বিতর্ক, কুইজ ও দলীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। বে ভিউ স্কুল, সেন্ট স্কলাসটিকাস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চিটাগাং গ্রামার স্কুল, সিলভার বেলস গার্লস স্কুল, ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল, লিটল জুয়েলস স্কুল, কল-কাকলি স্কুল, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এবং মেরন সান স্কুল সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

এপর্বে বিচারক ছিলেন নাট্যকার প্রদীপ দেওয়ানজী, সঙ্গীতশিল্পী মোস্তফা কামাল, সঙ্গীতশিল্পী ও নাট্যশিল্পী শুভ্রা বিশ্বাস, আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী এবং নাট্য ও চিত্রশিল্পী শায়লা শারমিন।

এদিকে অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল মিলনায়তন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের পাশাপাশি ছুটে এসেছিলেন অভিভাবক ও শিক্ষকরাও।

লেখিকা ও শিক্ষিক ফেরদৌস আরা আলীম বলেন,‘দারুণ হয়েছে এই আয়োজন। আশা করছি তিনদিনের আয়োজন আরও সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে।’

তিনদিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিন বুধবার সকাল ১০টায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করবেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবুল হক এবং অতিথি থাকবেন কনফিডেন্স সিমেণ্টের নির্বাহী পরিচালক জহীর উদ্দিন আহমেদ।

১০ অক্টোবর সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও অতিথি হিসেবে দৈনিক কালের কণ্ঠ’র ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তফা মামুনেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।