সুপার ব্লাড ব্লু মুন

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ৩১ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ১০:৩০ অপরাহ্ণ

‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ বা ‘বিশাল নীল রক্তাভ চাঁদ’। বিরল ওই চাঁদ দেখতে চট্টগ্রামের কর্নফুলীর তীরে জড়ো হয়েছিলেন মহাকাশপ্রেমীরা।

কিন্তু মাঘের কুয়াশা তাতে বাদসাধে। কুয়াশার সহযোগী হয়েছিল মেঘও। ফলে ঘন কুয়াশা এবং মেঘের কারণে শুধু সুপার ব্লু মুনই নয়, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণও দেখতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে সমবেতদের। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৩৭ মিনিটে চাঁদ দিগন্তের উপরে ওঠার পর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে আংশিক গ্রহণ ও ৬টা ৫১ মিনিটে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয়।

এ চন্দ্রগ্রহণের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা দেখাতে দেশের বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র নানা ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এ সময় কয়েকজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, আকাশমোদী এবং আগ্রহী অনেক মানুষ সেখানে চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করতে যান।

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের মধ্যবর্তী অংশ ৭টা ২৯ মিনিটে সংঘটিত হয়। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সর্বমোট এক ঘণ্টা ১৬ মিনিট স্থায়ী হয়। রাত ১০টা ৮ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণের উপচ্ছায়া পর্যায় শেষ হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ এরকম একই সঙ্গে ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ দেখা গিয়েছিল ১৮৬৬ সালের ৩১ মার্চ। সেই হিসাবে আবার দেড়শ’ বছর পৃথিবীবাসী এ রকম ঘটনার সাক্ষী হল।

সুপার ব্লু ব্লাড মুনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, এ মাসে একবার পূর্ণিমা হয়ে গেছে। একই মাসে দ্বিতীয়বার পূর্ণিমা হওয়ায় চাঁদের একটি নাম ‘ব্লু মুন’। এর রঙ খানিকটা রক্তিম ধরনেরও ছিল।

আবার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসায় তার নামকরণ হয় ‘সুপার মুন’। এর উজ্জ্বলতা অন্য পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে ১৫ ভাগ বেশি। আকারটাও স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় প্রায় ৭ ভাগ বেশি। এ চাঁদটি একই সঙ্গে সূর্য ও পৃথিবীর একই সরল রেখায় চলে আসায় হয়েছে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ।

 

চাঁদ নিয়ে একসঙ্গে তিনটি মহাজাগতিক ঘটনা ঘটেছে বুধবার। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন “সুপার ব্লাড ব্লু মুন”। ৩৬ বছর পর বুধবার সন্ধ্যায় ৫টা ৩৭মিনিট ২৪সেকেন্ডে ভিন্ন আবেদনে ধরা দেয় পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী।

চাঁদের সাথে একসঙ্গে যে তিনটি ঘটনা ঘটছে এক্সট্রা বিগ সুপার মুন, ব্লু মুন ও পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। উত্তর আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চল, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এই ঘটনা অবলোকন করেছেন অনুসন্ধিৎসু মনের মানুষ।

একই মাসের মধ্যে দুবার পূর্ণিমা হলে দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে “ব্লু মুন” বলা হয়। সাধারণত প্রতি দুই বছর আট মাস অন্তর “ব্লু মুন” ঘটে। সেই সাথে হবে “সুপার মুন”। এই ঘটনায় পৃথিবী থেকে দূরত্ব খানিকটা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক অবস্থা থেকে শতকরা ১৪ ভাগ পর্যন্ত বেশি বড় এবং ৩০ ভাগ পর্যন্ত বেশি উজ্জ্বল দেখায় চাঁদ।

শুধু তাই নয়, চাঁদ এক পর্যায়ে পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে সাদা থেকে কমলা বা লাল বর্ণ ধারণ করে। ফলে দেখা যায় পূর্ণ চন্দ্র গ্রহণ। এক ঘণ্টা ১৬ মিনিট মোটামুটি সরলরেখায় অবস্থান করে চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে সন্ধ্যার শুরুতেই এই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়।

এই তিন ঘটনাকে একত্রে বলা হচ্ছে “এস্ট্রোনোমিকাল ট্রাইফ্যাক্টা”। চন্দ্রগ্রহণ সন্ধ্যা ৫টা ৩৭মিনিট ২৪সেকেন্ডে শুরু হয়েছে, যা রাত ১০টা ০৯মিনিট ৫৪সেকেন্ডে শেষ হয়।