সুপার টাইফুন হাইয়ান মৃত্যুপূরির রূপ দিয়েছে ফিলিপাইনকে

প্রকাশ:| রবিবার, ১০ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৫০ অপরাহ্ণ

সুপার টাইফুন হাইয়ান মৃত্যুপূরির রূপ দিয়েছে ফিলিপাইনের বিস্তীর্ণ এলাকাকে। নজিরবিহীন পূর্ব সতর্কতা সত্ত্বেও ঘুর্ণিঝড়ের এর তাণ্ডবে ১০ হাজারের বেশী লোক মারা গেছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। পুরোপুরি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপকূলীয় অঞ্চল। কর্তৃপক্ষ গতকাল রবিবার এ কথা জানায়। দেশটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে সামরিক সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলো শিগগিরই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।টাইফুন হাইয়ান ২

তাকলোবানে স্থানীয় পুলিশ প্রধান এলমার্ট সোরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লেইতি প্রদেশে প্রায় ১০ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে। তিনি বলেন, গত রাতে গভর্নরের সাথে এ বিষয়ে আমাদের বৈঠক হয়েছে। এ প্রদেশে ১০ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়িঘর ও স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, লেইতি প্রদেশের রাজধানী তাকলোবানে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার লোকের বসবাস। তাকলোবানসহ উপকূলীয় আরো কয়েকটি শহর ঝড়ে এতো বেশী লণ্ডভণ্ড হয়েছে যে মনে হচ্ছে সেখানে ধ্বংসলীলা সাধিত হয়েছে। অধিকাংশ বাড়িঘরের কেবল পিলারগুলো দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তায় যানবাহনগুলো খেলনার মতো উল্টে পড়ে আছে। জাতিসংঘের দুর্যোগ পর্যালোচনা ও সমন্বয়কারী দলের প্রধান সেবাস্তিয়ান রোডেস স্টেম্পা বলেন, চারদিকে কেবলই ধ্বংসের চিহ্ন। তিনি বলেন, সর্বশেষ আমি এতোটা ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছি ভারত মহাসাগরের সৃষ্ট সুনামির পর। ২০০৪ সালে সুনামির এ আঘাতে ২ লাখ ২০ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। ফিলিপাইনে লেইতি ও এর প্রতিবেশী দ্বীপে শুক্রবার ভোরে ৩৮৯ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা টাইফুন হাইওয়ান আঘাত হানে। এ সময়ে বিশাল বিশাল ঢেউ ওই এলাকাগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। হতাহতের পূর্নাঙ্গ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। আরো হতাহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুয়ান অঞ্চল এখনও যোগাযোগহীন রয়ে গেছে। সেখানকার সামার দ্বীপে প্রায় ৪০ হাজার জেলে বাস করে। এ দ্বীপেই প্রথম আঘাত হানে হাইয়ান। এদিকে ফিলিপাইনের অনুরোধে সামরিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শোক প্রকাশ : জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ফিলিপাইনের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দুর্গত মানুষের পাশে দ্রুত দাঁড়াতে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে নির্দেশ দিয়েছেন। জাতিসংঘ মুখপাত্র মার্টিন নেসিরকি এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

অপরদিকে, বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এক শোকবার্তায় ফিলিপাইনে ঘুর্ণিঝড়ে হাজার হাজার

মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।