সুন্দরবন ও মংলা বন্দর রক্ষার্থে দাউদখালী নদীবক্ষে পদযাত্রা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:৫২ অপরাহ্ণ

সুন্দরবন ও মংলা বন্দর রক্ষার্থে দাউদখালী নদীবক্ষে পদযাত্রাসুন্দরবন ও মংলা বন্দর রক্ষা, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরাসনকল্পে পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক নৌ-রুট মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল দ্রুত খনন, পুন:খনন, দাউদখালী নদীসহ সংলগ্ন সকল সরকারী খালের উপর অবৈধ বাধ ও স্থাপনা অপসরন ও গন সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে নদী বক্ষে এক পদযাত্রা করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি, কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ(সিডিপি), আন্তর্জাতিক মংলা-ঘষিয়াখালি চ্যানেল রক্ষা সংগ্রাম কমিটি, সার্বিক মানব উন্নয়ন সংগঠন-কারিতাস, পিপলস্ রাইট ভয়েস(পিআরভি) এর যৌথ উদ্যোগে নতুন বছরের প্রথম দিন দাউদখালী নদী বক্ষ(শ্রীফলতলা ব্রিজ এর নিচ ) থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে ঘষিয়াখালী চ্যানেলে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নদী বাছাও আন্দোরনের নেতা এ্যাড: মহিউদ্দিন সেখের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ সাধারন সম্পাদক প্রভাষক মো: বজলুর রহমান, মংলা ঘোষিয়াখালী চ্যনেল রক্ষা কমিটির সাধারন সম্পাদক এমএ সবুর রানা কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশীপ (সিডিপি)’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, জাসদ নেতা শেখ আফজাল হোসেন, জলবায়ু সহিষ্ণু গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কৃষ্ণা রানী দে, বক্তাদের দাবী দাউদখালী নদী ও এর সংযোগকারী খাল সমূহের অবৈধ দখলের কারনে ঘোষিয়াখালী চ্যানেলটি মরো যাওয়ার কারনে তেল দূষনর মত দূঃখ জনক ঘটনার মাধ্যমে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র আজ চরম হুমকির মুখোমুখি।

আন্তর্জাতিক মংলা-ঘষিয়াখী চ্যানেলটি পরিকল্পিত ভাবে খনন এবং পুন:খনন প্রয়োজন। বর্তমানে রুটটি যে অবস্থায় আছে সেভাবে খনন করলে ৬ মাসের মধ্যে আবার ভরাট হয়ে যাবে। প্রায় ৭ কিলোমিটার বাক থাকায় জোয়ারভাটার সময় দ্বিমুখী পানির টানে সবসময় পানি স্থবির থাকে। যেকারনে পানির প্রবাহ একেবারেই ক্ষীণ হয়ে পড়ায় জোয়ায়ে আসা পলি নদীতে জমা হয়ে রাতা রাতি ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

চ্যানেলটি সচল করতে হলে এই দ্বিমুখী অবস্থার উত্তোরণ ঘটাতে হবে। এর সাথে এই চ্যানেলের প্রধান দুটি সংযোগ নদী দাউদখালী ও বিসনা নদী পুন:খনন, বিলিন অংশ পুনদ্ধার, এর উপর সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ নদী দুটি সংলগ্ন সকল প্রবাহমান খালের উপর নির্মিত শতশত অবৈধ বাধ অপসরন করে এসকল নদীর স্রোতধারা ঘষিয়াখালি চ্যানেলের সাথে মিশিয়ে দিলে নদীর প্রবাহ বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশী –বিদেশী নৌ-যান চলাচলের উপযোগী হবে চ্যানেলটি ।

ধীরগতিতে খনন কার্যক্রম চললে একদিক দিয়ে কাটবে অন্যদিকদিয়ে ভরাট হবে। অপচয় হবে রাষ্ট্রিয় অর্থের । প্রয়োজন একই সঙ্গে একাধিক ড্রেজার দিয়ে খনন কাজ শেষ করে স্রোতধারা ফিরিয়ে আনা । আর এই চ্যানেল ঠিক রাখতে হলে এর সাথে ১৪০টি রেকার্ডীয় সংযোগ নদী-খাল সচল রাখতে হবে। এজন্য সকল রেকর্ডীয় খাল খনন ও বাধ অপসরন করতে হবে। এলাকার চিংড়ী চাষ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। নদী-খাল আটকিয়ে এই চিংড়ী চাষ করতে দেওয়া যাবে না। জৌখালী সাব প্রজেক্টেও অকেজো স্লুইচগেট অপসারন পূর্বক ৩৪/২ এর পরিকল্পিত স্লইচগেট নির্মান ও প্রজেক্টভূক্ত ১শ ১০ কিলোমিটার নদীখাল খনন কাজ অব্যহত রাখার দাবী জানান।
প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে এ কাজ করতে হবে। পদযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার, বিপুল সংখ্যাক নারী পুরুষ অংশ নেয়।