‘সুন্দরবন আমার মা, উজাড় হতে দেব না’

প্রকাশ:| রবিবার, ১৪ আগস্ট , ২০১৬ সময় ০৯:২১ অপরাহ্ণ

স্থানটি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এর প্রবেশ ফটকের দরজায় ঝুলছে লম্বা একটি ব্যানার। লেখা ‘সুন্দরবন আমার মা, উজাড় হতে দেব না’। সুন্দরবনের কাছে রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ব্যানারটি নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছিলেন অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মিলি খানম। আজ রোববার বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত অভিনব এ প্রতিবাদ জানান তিনি।

‘সুন্দরবন আমার মা, উজাড় হতে দেব না’‘নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য মায়ের অবস্থান কর্মসূচিতে’ মিলিকে সঙ্গ দেন তাঁর স্বামী আবু তৈয়ব ও সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলে চে গুয়েভারা। তাঁর প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সেখানে জড়ো হন আরও অনেকেই। তাঁরা সবাই রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।

বিকেলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল, একটি চেয়ারে বসে আছেন মিলি খানম। মাঝেমধ্যে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছেন। তবে শারীরিক অবস্থার কারণে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হয় না তাঁর পক্ষে। তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। মায়ের কর্মসূচি স্থলের কাছেই আরেক শিশুর সঙ্গে খেলছিল ছেলে চে গুয়েভারা। একটু পরপর এসে মায়ের সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছিল সাড়ে তিন বছর বয়সের এই শিশুটি। একপর্যায়ে মায়ের পাশে একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে যায় সে। তাতে লেখা—‘অনাগত সন্তানের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’।

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা মিলি খানম তাঁর এমন প্রতিবাদ সম্পর্কে বলেন, ‘বিদ্যুৎ অনেকভাবে পাওয়া যাবে। কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে গেলে তা আর ফিরে পাব না। সুন্দরবন ধ্বংসের পাঁয়তারা হিসেবে রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।’ এরপর বলতে থাকলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যে আমার সন্তান পৃথিবীর আলোর মুখ দেখবে। তার জন্য নিরাপদ পৃথিবী দরকার। বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে দেশ ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই আমি এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছি। আশা করি, অন্যরাও মাঠে নামবেন।’

মিলি খানমের এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির চট্টগ্রামের নির্বাহী সদস্য হাসান মারুফ রুমি বললেন, বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা মায়ের প্রতিবাদ প্রতীকী হলেও এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে।

স্ত্রীর এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক আবু তৈয়ব বলেন, সুন্দরবন যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় রেখে দেওয়া হোক। সুন্দরবনের ক্ষতি হয়, এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে সরকারের সরে আসা উচিত।