সুখের সমাপ্তি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৯:৫২ অপরাহ্ণ

জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশের বিকালটা সাদামাটা গেলেও রাতের পার্টিটা দারুণ জমেছিল। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল সিরিজ জিতলে যে ধরনের পার্টি হয়, ভাববেন না বাংলাদেশও সে ধরনের কিছু করেছে। চট্টগ্রামে ক্রিকেটারদের আবাস হোটেল পেনিনসুলার ছাদে বারবিকিউতে নৈশভোজ হয়েছে। জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে ক্রিকেটাররা আনন্দের মেজাজে ছিলেন। তারওপর অনেকে গতকাল পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়েছেন। দুয়ে মিলে রোববার রাতটা দারুণ কেটেছে স্বাগতিক খেলোয়াড়দের। এমন সাফল্যের পর ক্রিকেটারদের মন ভালো থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের দিন কেটেছে ব্যর্থতার গলিঘুপচিতে। বছরের শুরুতে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো ক্রিকেট দলের ভেতর দিয়েও বয়ে গেছে অশান্তির চোরা স্রোত। জাতীয় দল নির্বাচক প্যানেলের বিরুদ্ধে একাদশ গঠনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সাকিব আল হাসানকে নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কোচ শেন জার্গেনসেনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় এবং আরও অনেক কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ দলে অশান্তি জেঁকে বসেছিল। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল খেলার মাঠেও। জিম্বাবুয়েকে তিন টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশের মধ্য দিয়ে সেসব মাটিচাপা দিতে পেরেছেন মুশফিকরা।

ড্রেসিংরুমে এখন স্বস্তির আবহ। প্রধান কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহেও দলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে গেছেন। দলগত এবং ব্যক্তিগত_ দুই জায়গায়ই হারানো ছন্দটা ফিরে এসেছে। শ্রীলঙ্কার কাছে তিন ফরম্যাটে হার দিয়ে বছরটা শুরু হয়েছিল। এরপর এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর ভারত সিরিজে শুধুই ব্যর্থতার গল্প লেখা হয়েছে। আফগানিস্তান, হংকং পর্যন্ত অস্বস্তি উপহার দিয়েছে। ভালো খেলার আশা নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গেলেও সেখানে হয়েছে ভারাডুবি। ইনচন এশিয়ান গেমসেও ভাগ্য সহায় হয়নি। দুশ্চিন্তার পাহাড় মাথায় চেপে মুশফিকরা জিম্বাবুয়ে সিরিজটা শুরু করেন। ঢাকা টেস্ট জেতার পর ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসের পারদ উঁচুতে উঠে। ব্যক্তিগত সব রেকর্ড দিয়ে জেতে খুলনা টেস্ট। সিরিজ জিতে র‌্যাঙ্কিংয়ে একধাপ এগিয়ে নবম স্থান নিশ্চিত করে। রোববার সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ টেস্ট ১৮৬ রানে জিতে র‌্যাঙ্কিং পয়েন্ট বাড়িয়ে নেয়। বাংলাদেশ পয়েন্ট ৩২ আর জিম্বাবুয়ের ১৮।

জিম্বাবুয়ে সিরিজের ব্যক্তিগত অর্জন অনেক। তিন টেস্টে ৩২১ রান করায় আইসিসি টেস্ট ব্যাটসম্যান র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৯তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন মুমিনুল হক। সাকিব ৩২ আর তামিম ৩৩তম স্থানে। ১৮ উইকেট পাওয়া সাকিব টেস্ট বোলার র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৬তম। সঙ্গে ২৫১ রান করে শীর্ষ অলরাউন্ডারের জায়গাটা ফিরে পেয়েছেন বাঁ-হাতি এ অলরাউন্ডার। ৩৯৮ পয়েন্ট তার। বিসিবির নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজটা খেলা হয়নি সাকিবের। ওই সিরিজটা খেলতে পারলে হয়তো আরও আগেই মুকুট ফিরে পেতে পারতেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই ছন্দচ্যুত ছিলেন। তামিম, মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ হাফ সেঞ্চুরির উপরে যেতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে। মুশফিক কষ্টেশিষ্টে একটা সেঞ্চুরি করায় প্রথম টেস্টটা ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের হাত থেকে বেঁচেছিল বাংলাদেশ। দুটো টেস্টেই স্বাগিতক ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাকানি-চুবানি দিয়েছে। সে দলটিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ (৮২২) রানও করে দেখাল। চার ব্যাটসম্যান ৫টা সেঞ্চুরি করল। তাইজুল ইসলাম, জোবায়ের হোসেন নতুন হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন দুর্দান্ত বোলিং করে।

জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বছরটা শেষ করল বাংলাদেশ। যাকে বলে সুখের সমাপ্তি। এ বছর ৭ টেস্ট খেলে ৩টিতে জিতেছেন মুশফিকরা। ২০১৫ সালের এপ্রিলের আগে টেস্ট সিরিজ পাচ্ছেন না তারা। বিশ্বকাপের পর আগামী বছর এপ্রিলে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ঢাকা আসবে পাকিস্তান দল। টেস্টের মতো ওয়ানডে সিরিজটাও ভালোভাবে শেষ করতে চান মাশরাফি বিন মুর্তজা। কারণ তিনিই এখন ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে মুশফিকের কাছ থেকে নেতৃত্ব কেড়ে নিয়ে নড়াইল এঙ্প্রেসকে দায়িত্ব দেয়া হয়। জিম্বাবুয়ে সিরিজটা মাশরাফির জন্য বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। কারণ ২০১৪ সালে কোনো ওয়ানডে ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ। উল্টো আফগানিস্তানের কাছে হারের ক্ষত এখনও দগদগে। মুশফিকের মতো মাশরাফিও বছরটাকে সুখের সমাপ্তি দিতে পারলে হয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ, যার সূচনা জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে আর শেষ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। টেস্টের ছন্দ ওয়ানডেতে ধরে রাখার প্রয়াসে সতীর্থদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন মাশরাফি। গতকাল তার নেতৃত্বেই ভাটিয়ারিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন ১০ ক্রিকেটার।/