সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা

প্রকাশ:| বুধবার, ৯ জুলাই , ২০১৪ সময় ১১:০৩ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলন ২০১৪ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেতন-ভাতাসহ আমরা যা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি তার সবই জনগণের টাকায়। আমাদের দায়িত্ব জনগণের কাছে তাদের প্রাপ্য সেবা পৌঁছে দিয়ে তাদের ঋণ শোধ করা।

তিনি বলেন, আমরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছি। আমরা রাজনীতি করি একটা লক্ষ্য নিয়ে। আমাদের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ করা। আসুন সবাই মিলে জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করি।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা যখন জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেই সেগুলো যথাযথভাবে সফল করা, বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব অনেকখানি আপনাদের উপর। আমাদের পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে আপনারা আন্তরিকতা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মাত্র ৫ বছরের জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসি। আপনারা দীর্ঘ সময় পান সেবা করার। আমরা এ অল্প সময়ে অনেক বেশি কাজ করতে চাই। সে কাজে প্রয়োজন আপনাদের সহযোগিতা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ আমাদের শেষ করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। আমরা সে প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা দূর করে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র।

ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার ছিলো আমরা সে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। কিছুদিন আগে আমরা মায়ানমারের কাছ থেকে বিশাল সমুদ্র সম্পদ লাভ করেছি। এবার আমরা ভারতের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হয়েছি। এ সম্পদ আমরা জনগণের কাজে ব্যবহার করতে পারবো।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তথ্য প্রযুক্তির কথা তুলে ধরে বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত নিশ্চিত করা যাবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের উন্নয়নের সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের উন্নয়নে সরকার জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছে।

আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কমিশনে তার রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিগত সময়ে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, সংগঠনটির মহাসচিব সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী প্রমুখ।