সীমান্তে দুই হাজার মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁজছে বাংলাদেশ-ভারত

প্রকাশ:| বুধবার, ৭ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৪:০৮ অপরাহ্ণ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত প্রায় দুই হাজার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁজছে বাংলাদেশ ও ভারত। ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, মুক্তিযোদ্ধার কবরঅসম ও মেঘালয়ের সীমান্ত এলাকায় যৌথভাবে এসব মুক্তিযোদ্ধার কবর খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই।

দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের পক্ষে আগরতলা, কোলকাতা, গুয়াহাটি ও শিলং থেকে চার সেনা অফিসারকে বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ এ. জহির জানিয়েছেন, চার ভারতীয় রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় ওই সব মুক্তিযোদ্ধার কবর রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমি ভারতের এমন ২৭টি স্পট চিহ্নিত করেছি যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর দেয়া হয়েছিল।”

সম্প্রতি এসব মুক্তিযোদ্ধার কবরের চূড়ান্ত অবস্থান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত বছর ত্রিপুরা সফরের সময় রাজ্য সরকারের সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর চিহ্নিত করা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন জনাব জহির।

এর আগে, ২০০৭ সালে কর্নেল এ. জহির মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কবর চিহ্নিত করেন। তার কবরটি আগরতলা থেকে ৮৪ কিলোমিটার দূরে হাতিমারাছরা এলাকায় অবস্থিত।

কবর থেকে অবশিষ্ট লাশ উঠানোর জন্য প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পরিশ্রম করেছিলেন এ. জহির। তারপর লাশগুলো ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে নিয়ে যান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক নুর মোহাম্মদ মজুমদার গত মাসে ভারত সফরের সময় বলেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কবর শনাক্ত করা খুব কঠিন কাজ।

এদিকে, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিরান গিত্তি বলেছেন, বাংলাদেশ যদি কবরের সম্ভাব্য অবস্থানের তালিকা তাদের দেয় তাহলে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই সব কবর খুঁজে বের করা সম্ভব।

গিত্তি জানান, রামগড় ও জয়নগর এলাকায় দুই মুক্তিযোদ্ধার কবর চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারতের চারটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের দুই হাজার কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেয়।সূত্র : পিটিআই


আরোও সংবাদ