সীতাকুন্ডে চার বছরে ৬ আ’লীগ নেতা খুন, শাস্তি হয়নি খুনিদের

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২১ জুন , ২০১৩ সময় ১১:২৪ অপরাহ্ণ

আ’লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এসময় রাজার হালে নিরাপদে দিন কাটানোর কথা আ’লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের। কিন্তু কার্যত ঘটছে ঠিক উল্টোটা। বিএনপি-জামায়াত তথা চারদলীয় জোটের শাসন আমলে যতটুকু নিরাপদে ছিলো আ’লীগের নেতাকর্মীরা নিজ দল ক্ষমতায় আসার পর যেন ততটাই নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে গেছেন তারা! এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে যেভাবে একের পর এক আ’লীগ নেতাকর্মী খুনের ঘটনা ঘটছে তাতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সবার চোখে পরিস্কার হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান আ’লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত ৪ বছরে সীতাকুন্ডে আ’লীগ ও যুবলীগের ৬ জন নেতাকর্মী নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। এরা হলেন, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম চৌধুরী, সাবেক পৌর কমিশনার ও আ’লীগ নেতা নুরুল আলম, পৌর যুবলীগ নেতা ও পন্থিছিলা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের সভাপতি কাউন্সিলর প্রার্থী এমান উল্লা এনাম, ভাটিয়ারী ষ্টেশান এলাকার ছাত্রলীগ কর্মী মোঃ জামাল, ভাটিয়ারী ইউনিয়ন আ’লীগের নেতা ও হাসনাবাদ এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ শফি ও পৌর আ’লীগের সহ-সভাপতি কাজী মোঃ মহিউদ্দিন সোহেল।

দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, খুন হওয়া এই ৬ জন নেতাকর্মীই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও আ’লীগের একনিষ্ট কর্মী। এরা বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়েও আ’লীগের অধিকার রক্ষার জন্য সব ধরণের আন্দোলনে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ফলে বিএনপি ও জামায়াত জোটের আমলে তারা বেশ কিছু মামলার আসামিও হয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে মামলার আসামি হলেও সেই সময়ে তাদের জীবন ঝুঁকি দেখা দেয়নি। এ বিষয়ে পৌর ও থানা আ’লীগ নেতাদের সাথে কথা বলতে চাইলে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতাকর্মী দারুন ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, ভাবতে অবাক লাগে যেসময় আমরা সবচেয়ে নিশ্চিতে কাটানোর কথা সেসময় একে একে আমাদের সব ত্যাগী নেতা খুন হচ্ছে। গত ৪ বছরে ৫/৬ জন নেতা খুন হয়ে গেলো। অথচ একটি খুনেরও বিচার হয়নি। আমাদের দলের হাই কমান্ড থেকেও প্রশাসনকে চাপে রাখা হচ্ছে না। হত্যার পর দু’য়েক দিন একটু হৈ হুল্লোর করে তারপর সবাই নীরব হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রশাসনও আসামি ধরার ব্যাপারে একেবারে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে।

থানা আ’লীগের এক নেতা বলেন, মাত্র একমাস আগে খুন হয়েছে ভাটিয়ারীতে আ’লীগের জন্য সবচেয়ে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত মোঃ শফি। এ ব্যাপারেও দলের হাই কমান্ডের তেমন একটা মাথা ব্যাথা দেখা যায়নি। এলাকাবাসী কয়েকদিন প্রতিবাদ জানিয়ে এখন নীরব। এভাবেই চাপা পড়ে যাচ্ছে খুনগুলো।

সে ঘটনার একমাসও না যেতে গত বুধবার রাতে খুন হয়েছেন আরেক একনিষ্ঠ কর্মী কাজী মোঃ মহিউদ্দিন সোহেল। পৌরসদরে যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যাকে আ’লীগের মিছিলে সর্বাগ্রে দেখা যেত, সেই সোহেল নেই একথা মানতে পারছেন কেউই। ঘটনার দিন পৌরসদরে বিক্ষোভরত অবস্থায় সোহেলের মৃত্যুর ব্যাপারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বেচ্চাসেবক লীগের উপজেলা সভাপতি মোঃ সাহাব উদ্দিন, পৌর আ’লীগ নেতামোঃ হারুন, ছাত্রলীগ নেতা মোঃ সোহেলসহ অনেকে। সবার দাবী খুনী যে দলেরই হোক তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে ফাঁসি দিতে হবে।

এ বিষয়ে থানা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল বাকের ভূঁইয়া বলেন, এলাকায় দুস্কৃতির সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর না হওয়ায় এসব ঘটনা ঘটছে।

খুনী-সন্ত্রাসীদের বিষয়ে প্রশাসন উদাসীন হলে এ ধরণের ঘটনা আরো ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।