সিলেট থেকেই শুরু হলো ডিজিটাল আদালত

প্রকাশ:| বুধবার, ২ মার্চ , ২০১৬ সময় ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণাসহ বাংলাদেশের অনেক কিছুই যাত্রা শুরু হয় শাহজালালের (রহ.) শহর সিলেট থেকেই। এবার বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ডিজিটাল আদালতের যাত্রাও শুরু হলো এখান থেকে।

বুধবার দুপুরে সিলেট জজকোর্ট প্রাঙ্গণে ‘ডিজিটালাইজড উইটনেস ডিপোজিশন সিস্টেম’ এর উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সুপ্রিমকোর্টের অ্যাপিলেড ডিভিশনের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক এবং ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি রোবার্ট ওয়াটকিনস।

সিলেট থেকেই শুরু হলো ডিজিটাল আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার সাক্ষ্য হাতে লিপিবদ্ধ করতেন বিচারকরা। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো সিলেট থেকে শুরু হলো নতুন ইতিহাস। সিলেট জজকোর্টের ৪৬টি আদালতের মধ্যে ২০টিতে ডিজিটাল সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এখন থেকে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হবে কম্পিউটারে সরাসরি টাইপ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে বিচার বিভাগেরও উন্নয়ন করতে হবে। অন্যথায়, বিদেশিরা এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না। এজন্য বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটালইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের আর্টিকেল অনুচ্ছেদ আমাদেরকে আনলিমিটেড লিবার্টি দেয়নি। লিবার্টি ও আইনের একটা সংযোগ রয়েছে। এমন স্বাধীনতা প্রয়োগ করা যাবে না, যা অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।’

তিনি ১৮৯২, ১৮৩৬ সালসহ পুরনো বিভিন্ন আইন বাদ দেয়া ও যুগোপযোগী আইন সংযোজনের জন্য উপস্থিত আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘স্কুল কলেজের এমপিভুক্তি ও বাতিল, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিশারিজ, বালু ও জল মহাল ইজারাসহ বেশ কিছু বিষয়ে কোনো আইন নেই। কেবল সার্কুলারের মাধ্যমে এগুলো হয়ে থাকে। যে কারণে লিটিগেশনের কারণে আপিল বিভাগে প্রায় ৬০ ভাগ মামলা হয়ে থাকে। তাই এখন সময় এসেছে এ বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। নতুন যুগোপযোগী আইন করতে হবে। এতে বিচার বিভাগের ওপর চাপ অনেকাংশে হ্রাস পবে। বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।’

দেশে এখনও ৩০ লাখ মামলাজট রয়েছে জানিয়ে প্রধান বিচাপতি বলেন, যেভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারপ্রক্রিয়া আধুনিকায়ন হচ্ছে, এতে আস্তে আস্তে এর সংখ্যা কমে আসবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগে ডিজিটাল পদ্ধতি শুরু হওয়ার পর এটা আমি বলতে পারি আর এটা আটকাবে না। পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে ও সময়ের সঙ্গে বিচার ব্যবস্থা আরো আধুনিক হবে।’

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিচার প্রার্থীরা এখন ডিজিটাল ব্যবস্থা সুফল পাবে। এটা শুধু টাইপ করে টেক্সট সংরক্ষণ নয় ভয়েস রেকর্ডিং ও সিডি করা হবে। এছাড়াও বিচারকের স্বাক্ষরিত কপি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেয়া হবে।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশের ২৮টি জেলায় আদলত ভবন ঊর্ধ্বমুখি করা হচ্ছে। সব জেলা আদালতকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। সিলেট জেলা জজ আদালতে শিগগিরই লিফট ও কানেকটিং ব্লিজ করা হবে।’

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক বলেন, দেশের ১৩ কোর্টে এই ব্যবস্থা চালু হবে। এই ব্যবস্থা সিলেট, মৌলভীবাজারসহ ৯টি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সিলেটের ২০টি আদালতের প্রতিটিতে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় অর্থায়ন করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি)। জুডিশিয়াল স্ট্রেনথেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট) আওতায় এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে সুপ্রিমকোর্ট।

সূত্র জানায়, এখন থেকে সিলেটের আদালতগুলোতে বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর, বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের সামনে কম্পিউটার থাকবে। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় আদালতে স্টোনোগ্রাফার কম্পিউটারে সাক্ষীর জবানবন্দি এবং আইনজীবীদের জেরা লিপিবদ্ধ করার সাথে সাথে সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ কম্পিউটারে তা দেখতে পাবেন। এক্ষেত্রে কোনো অসঙ্গতি থাকলে বিচারক তা সংশোধনের নির্দেশ দেবেন। এছাড়াও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কম্পিউটারে কম্পোজকৃত কপি আদালত সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর সহকারে মামলার বাদী-বিবাদী পক্ষকে সরবরাহ করা হবে।

এক্ষেত্রে বাদী-বিবাদী পক্ষের তাৎক্ষণিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষীর সাক্ষ্য তথা জবানবন্দি কিংবা আইনজীবীর জেরা সংশোধনের সুযোগ থাকছে। এতে করে আদালতের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা জজ কোর্টের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে সিলেটের আদালতে ডিজিটালের ছোঁয়া লেগেছে। এতে করে বিচারিক ব্যবস্থায় একটি নতুন ইতিহাসের সূচনা হলো।


আরোও সংবাদ