সিন্ডিকেটের সমঝোতা না নির্বাচন?

প্রকাশ:| শনিবার, ২৫ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৭:২৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নতুন কমিটি কি সিন্ডিকেটের সমঝোতার মাধ্যমে হবে না নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন নেতা? এই নিয়ে এখন আলোচনা চলছে সবখানে।

আজ শনিবার সংগঠনটির ২৮তম জাতীয় কাউন্সিল শুরু হয়েছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শনিবার দুই দিনব্যাপী ছাত্রলীগের এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। ছাত্রলীগের শীর্ষ মহল থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও এ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা রয়েছে যে ভোট হবে, নাকি সিন্ডিকেটের সমঝোতার মাধ্যমে নতুন কমিটি হবে?

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ছাত্রলীগের নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা একজন বলেন, ‘সমঝোতার চেষ্টা চলছে। যদি সমঝোতা না হয় সেই ক্ষেত্রে নির্বাচন করা হবে।’

সূত্রের তথ্যমতে, ফরিদপুর অঞ্চলের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির নেতৃত্বে থাকা বলয়টি তাদের পক্ষের সভাপতি কাকে করা হবে তা ঠিক করতে পারলেও সাধারণ সম্পাদক কাকে করা হবে তা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঠিক করতে পারেননি। তবে সমঝোতা বা নির্বাচন যাই হোক না কেন, এ বলয়ের উভয় প্রক্রিয়ায় ঘুরেফিরে সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ। এ বলয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে যাঁরা শেষ পর্যন্ত লড়বেন বলে শোনা যাচ্ছে, তাঁরা হলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পি, সহসম্পাদক জাকির হোসাইন, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শাহেদ।

এর বাইরে মাহমুদুল হাসান রিপনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বলয় থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত ও কেন্দ্রীয় উপ-আইন সম্পাদক বিপ্লব হাসান পলাশ। তবে রাহাতের মনোনয়নপত্র বয়সের কারণে বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘আমরা কোনো সিন্ডিকেটে বিশ্বাস করি না। ছাত্রলীগের অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’

সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি জানান, ১০১টি সাংগঠনিক জেলা থেকে ২৫ জন করে কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে।

সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২৯ বছর বয়সী নেতারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ছাত্রলীগ কমিটির বিভিন্ন পদ পাবেন। কাউন্সিলররা সরাসরি ভোটে প্রার্থীদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচন করবেন।

তবে অতীতের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভোট ছাড়াও নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্ব পায়। আর এগুলো হলো আঞ্চলিক রাজনীতি ও কে কোন সিনিয়র নেতার অনুসারী। তবে অনুগত লোক ঠিক করার চেষ্টা থাকলেও দক্ষতা-যোগ্যতা ও মাঠের গ্রহণযোগ্যতাকেও বাদ দেওয়া হয় না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ তিনটির মধ্যে নেতৃত্ব নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো সিন্ডিকেটের আঞ্চলিক রাজনীতির হিসাব। বিগত কমিটির সভাপতি উত্তরাঞ্চল আর সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম এবং বর্তমান কমিটির সভাপতি বাগেরহাট ও সাধারণ সম্পাদক জামালপুর এলাকা থেকে উঠে এসেছেন। এই বিবেচনায় এবার নেতা না পাওয়া এলাকাগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সংগঠনে প্রাধান্য বিস্তার করা ফরিদপুর এবং বরিশাল অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব পাচ্ছে না। ফলে ফরিদপুর এবার বিশেষ আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, উত্তরাঞ্চল থেকেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচনের হিসাব এবার অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সম্প্রতি এই শাখায় বরিশাল থেকে আবিদ আল হাসানকে সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল থেকে মোতাহার হোসেন প্রিন্সকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রে এ দুই অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেও অনেকে মনে করছেন।

গত ১২ জুলাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। ছাত্রলীগের সম্মেলনের নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মোট ২৪১ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন কারণে ৩৫ জনের ফরম বাদ পড়েছে।

সম্মেলন উপলক্ষে সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া ৭৮ জনের মধ্য থেকে ১৪ জনের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে। সবশেষ ৬৪ জন সভাপতি পদের জন্য লড়াই করবেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬৩ জন ফরম জমা দিয়েছে। এর মধ্য থেকে ২১ জনের মনোনয়ন ফরম বাদ পড়েছে। সর্বশেষ ১৪২ জন এই পদের জন্য লড়বে।

ছাত্রলীগের সম্মেলনের নির্বাচন কমিশনার ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ বয়স ২৯ ধরে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এর থেকে যাঁদের বয়স বেশি, তাঁদের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ও ফরম মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে অছাত্র, বিবাহিত এই সব বিষয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। দুই সিন্ডিকেটের মতের মিল না হলে এই সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন ছাত্রলীগের একটি অংশ। সূত্র জানিয়েছে, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিপনসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বড় একটি অংশ এরই মধ্যে জোটবদ্ধ হয়েছে সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে তাঁদের অনুসারীদের ছাত্রলীগের কমিটিতে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।


আরোও সংবাদ