সিডিএ চেয়ারম্যান ছালামকে অপসারণ ও হাবিবুরকে চাকুরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে-শ্রমিক লীগ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে অপসারণ ও সিডিএ কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানকে চাকুরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে মহানগর শ্রমিক লীগ।

মঙ্গলবার সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামকে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আবদুচ ছালাম আওয়ামী লীগের কেউ নন, সুবিধাভোগী মাত্র। সিডিএর চেয়ারম্যান পদে থেকে তিনি দলকে বিক্রি করে নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন।’

এতে বলা হয়, ‘হাবিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। সিডিএ চেয়ারম্যান অন্যায়ভাবে তাকে চাকুরিচ্যুত করে তার পেটে লাথি মেরেছেন। ছালামের এসব অপকর্মের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

‌স্মারকলিপি প্রদানকালে শ্রমিক নেতারা বলেন, ‘আবদুচ ছালাম চট্টগ্রামের যোগ্য প্রতিনিধি নন। তাকে এ পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।’

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক আব্দুল আহাদ, শ্রমিক নেতা আবু তাহের, বখতেয়ার উদ্দিন খান, কাজী মাহবুবুল হক এটলী, আবুল হোসেন আবু, মফিজুর রহমান মঞ্জু, জয়নাল আবেদীন, তাজুল ইসলাম, মিরন হোসেন মিলন, আলী আব্বাস, প্রবীন কুমার ঘোষ, আলী আজগর, কাঞ্চন দাশ, আসাদুল হক, কামাল উদ্দিন, গাজী জসিম উদ্দিন, আবু তাহের জিলানী, নুরুল করিম, মো: সালাউদ্দিন, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, আব্দুল খালেক, আবুল কালাম পাটায়োরী, হুমায়ন, মালেক মাঝি, নুরু ফকির, রতন মাঝি, আমির হোসেন মুন্সি, লিটন দাশ, আব্দুল হান্নান, জামাল উদ্দিন, জামাল উদ্দিন লিটন, হেলাল, দেলোয়ার।

এর আগে, গত ১৮ মার্চ একই দাবিতে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে স্মারকলিপি দেন সিডিএ কর্মচারী লীগ। এছাড়া, ১৭ মার্চ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মচারী লীগ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অনিয়ম-দুর্নীতি ও সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য সিডিএ চেয়ারম্যান জামায়াত শিবিরের পৃষ্টপোষকতা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চান্দগাঁও এলাকায় ৩ দশমিক ৩০কাঠা খেলার মাঠের জায়গা জামায়াত-শিবির নেতাদের সমিতির নামে ১টাকা টোকেন মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। একইভাবে সিডিএ চেয়ারম্যানের মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত মাবিয়া-রশিদিয়া ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের ‍জায়গা ১ টাকা টোকেন মূল্যে প্রদান করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন শিল্পপতি আবদুচ ছালাম। মহিউদ্দিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি সিডিএ চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। ছালামকে নিয়োগের মাধ্যমে সিডিএ’র ইতিহাসে প্রথমবারের মত রাজনৈতিক নিয়োগের ঘটনা ঘটে।


আরোও সংবাদ